হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে—ওয়াশিংটনের সামনে এখন কার্যত দু’টি পথ খোলা আছে: একটি ব্যয়বহুল ও প্রায় অসম্ভব সামরিক সংঘাত, অথবা এমন একটি চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খারাপ’ হতে পারে। এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে বাড়ছে।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্র দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।
একই বক্তব্যে তেহরান অভিযোগ করে বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী কার্যত ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। এই পরিস্থিতি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যদিও সেই সময়সীমা কত দিন—তা প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে একটি খারাপ চুক্তি, অথবা একটি অসম্ভব সামরিক অভিযানের মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে। পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের সাম্প্রতিক অবস্থানেও সুর বদল এসেছে, যা ওয়াশিংটনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
এই কড়া বার্তার পর আরও এক ধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দেন আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার এবং বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী সংস্থা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে আখ্যা দেন। রেজায়ীর ভাষায়, পৃথিবীতে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এমন জলদস্যু, যাদের কাছে বিমানবাহী রণতরি আছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের যেমন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা আছে, তেমনি জলদস্যু দমন করার সামর্থ্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সরাসরি হুমকি দিয়ে রেজায়ী বলেন, তোমাদের বাহক (বহনকারী) ও বাহিনী কবরস্থানের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকো। এই বক্তব্যে তিনি গত মাসে ইসফাহানের কাছে বিধ্বস্ত বলে দাবি করা একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের কথাও উল্লেখ করেন।






