ঢাকা   বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক: জনদুর্ভোগের আরেক নাম

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক: জনদুর্ভোগের আরেক নাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন যেন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়, ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা—তা বোঝা দায় হয়ে পড়ে। এতে করে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালকদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও কোথাও সড়কটি দেবে গেছে। সড়কের মধ্যে অনেক ছোট-বড় গর্তেও সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টির পানি এইসব গর্তে জমে আছে। এতে করে এই সড়ক দিয়ে যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পড়ছেন দুই উপজেলার যাত্রীরা। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সড়কটির টেকসই সংস্কার দাবি করেছেন। এটি বিজয়নগর উপজেলার প্রধান সড়ক। এছাড়াও এই সড়ক দিয়ে যাতায়ত করেন আখাউড়া উপজেলার লোকজন। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এরমধ্যে বিজয়নগর উপজেলার অংশের দৈর্ঘ্য ২২ কিলোমিটার। জেলার আখাউড়া স্থলবন্দরগামী যানবাহন এবং কুমিল্লা-সিলেটগামী যানবাহনগুলো বিকল্প সড়ক হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকে।

সড়কটির করুন দশার কারণে বিপাকে পড়ছে পথচারী, যাত্রী সাধারণ, পরিবহন চালকরা,শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ও প্রধান সড়ক হচ্ছে চান্দুরা- সিঙ্গারবিল সড়কের বিজয়নগর অংশে বেহাল দশা। এর মধ্যে সড়কটির চান্দুরা, সাতগাঁও, আলাদাউদপুর, মির্জাপুর, মোল্লারটেক, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও মোড়, আদমপুর, খিরাতলা, শ্রীপুর ও সিঙ্গারবিল এলাকায় সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়কটির কোথাও দেবে গেছে, বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। এই ভাঙ্গাচুরা সড়ক দিয়ে যাতায়তকালে বিকল হচ্ছে যানবাহন।

এদিকে সড়কের পাশে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের জমে থাকা পানি সরতে পারছে না। অপর দিকে সড়কের অধিকাংশস্থানে সড়ক সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দারা তাদের বাড়ির পানি নিষ্কাশনের পাইপলাইন দিয়ে রেখেছে। যার কারণে বাড়ি-ঘরের পানি জমে সড়কটিতে সারা বছরই জলাবদ্ধতা লেগে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১ বছর আগে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ইটের খোয়া দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করা হয়েছিলো। কিন্তু এতে সমাধান হয়নি। টানা বৃষ্টির কারনে বর্তমানে সড়কটির অবস্থা আরো নাজুক।

শিক্ষার্থী সাদিয়া বেগম বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। এই সড়ক দিয়ে যাতায়ত করতে গিয়ে যানবাহনে বেশী ভাড়া দিতে হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রুবেল মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটির বেহাল অবস্থা। প্রায়ই সড়কের গর্তে আটতে যাচ্ছে যানবাহনের চাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পাল জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রায়ই তিনি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে যাতায়ত করেন। সড়কটির কঙ্কালসার অবস্থার কারনে যাতায়তে যাত্রীদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সড়কটির সংস্কার কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, পুরো রাস্তাটি সংস্কারের জন্য টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!