ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

শপথের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চাইল রাজ্যপাল, বড় বিপদে থালাপতি

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

শপথের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চাইল রাজ্যপাল, বড় বিপদে থালাপতি

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে অভিষেকেই বড় সাফল্য পাওয়া অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের জন্য দাবি জানালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চেয়েছেন রাজ্যপাল আর ভি আরলেকার।

সূত্রের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের আগে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে বলে বিজয়কে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের মতে, নির্বাচনে বড় জয় পেলেও এখনও পর্যাপ্ত সংখ্যা জোগাড় করতে পারেনি দলটি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজ্যপালের বাসভবনে বিজয়কে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে একাধিক প্রশ্ন করা হয় তাকে। এর মধ্যে ছিল- মাত্র ১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে কীভাবে সরকার পরিচালনা করবেন তিনি, ভবিষ্যতে কোন দলগুলো তাকে সমর্থন দেবে এবং সম্ভাব্য জোটসঙ্গী কারা হতে পারে?

টিভিকে রাজ্যপালকে ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা দুটি বাম দল এবং দুটি আঞ্চলিক দলের কাছ থেকে ছয়টি আসন আশা করছে। এদিকে দলটি এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা রাজ্যপালকে বাধ্য করতে আদালতের দ্বারস্থও হতে পারে। বুধবারও বিজয় ও রাজ্যপাল আরলেকারের সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখনও রাজ্যপাল সরকার গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, পরে লোকভবনের সূত্র এনডিটিভিকে জানায়, উপস্থাপিত সংখ্যায় সন্তুষ্ট হননি রাজ্যপাল।

বিজয়ের তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের রয়েছে ১০৮টি আসন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে ১০টি কম। এই ঘাটতির অর্ধেক পূরণ করবে কংগ্রেস, তারা শর্তসাপেক্ষ সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে। শর্তটি হলো- টিভিকে সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তির (যা ভারতীয় জনতা পার্টিকে ইঙ্গিত করে) সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে বা জোট করতে পারবে না।

বাকি অর্ধেক সম্ভবত পূরণ হবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) চারটি করে আসন থেকে। সেইসঙ্গে বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (দুটি আসন) এবং পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চির (চারটি আসন) মতো ছোট তামিল দলগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

ধারণা করা হচ্ছে, টিভিকে, কংগ্রেস, বাম, ভিসিকে, পিএমকে- বিজয়কে ১২৩টি আসন এনে দেবে। তবে অভিনেতা তার ত্রিচি (পূর্ব) আসন থেকে পদত্যাগ করলে কমে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১২২-এ, কারণ বিজয় দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন।

কিন্তু সন্দেহ রয়েছে, ভিসিকে বিদায়ী দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) সঙ্গে জোটবদ্ধ, যারা বিজয়ের ‘রাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে পরিচিত। ফলে বিজয়ের সঙ্গে যোগ দিতে হলে উভয়কেই তাদের বর্তমান জোট ভাঙতে হবে, কিন্তু টিভিকের পরবর্তী সরকার গঠন এবং অভিনেতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ বলে মনে হচ্ছে।

এই নির্বাচনের প্রচারণায় টিভিকে- ডিএমকে এবং বিজেপির ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছিল এবং বিজয়কে নায়ক বানিয়ে ‘ভালো বনাম মন্দ’-এর একটি আখ্যান তৈরি করেছিল। এর সুফলও মিলেছিল। বিজয় বা টিভিকে কেউই সরাসরি বৃহত্তর দল এআইএডিএমকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।

সম্ভবত সেই নরম মনোভাবের ফলেই অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের বা এআইএডিএমকের বিভিন্ন গোষ্ঠী জোট করতে প্রস্তুত রয়েছে। দলটি দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছে। ফলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, এই দলের সঙ্গেই জোট করতে পারে টিভিকে।

বৃহস্পতিবার সকালের খবরে বলা হয়েছে, এআইএডিএমকের এক ডজনেরও বেশি বিধায়ক টিভিকের সঙ্গে জোট বাঁধতে প্রস্তুত ছিলেন এবং বিষয়টি জোর করে আদায় করার জন্য দলটির সঙ্গে আলাপেও গিয়েছেন। তবে, এআইএডিএমকের দুজন নেতা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, কোনো জোট হবে না এবং চুক্তির যেকোনো কথাই মিথ্যা।

এদিকে, এআইএডিএমকের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের কারণে বিজয় জোট করতে অনিচ্ছুক বলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, যদি টিভিকে যথেষ্ট শক্তিশালী জোট গঠন করতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল নবনির্বাচিত বিধানসভা স্থগিত করতে পারেন এবং কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন, যার ফলে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই সবকিছুর মধ্যেই, বিজয়ের ১০৭ জন নতুন বিধায়ককে রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্দির শহর মামাল্লাপুরমের একটি রিসোর্টে আলাদা করে রাখা হয়েছে। টিভিকে এই খেলায় নতুন হলেও বিজয় সব নিয়মকানুন জেনেই মাঠে নেমেছেন।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!