গত বছর ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে চীন। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘চেংদু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর প্রকৌশলী ঝ্যাং হেং সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংঘাতের সময় চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ভারতের একটি ফরাসি নির্মিত রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বহরে থাকা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
ঝ্যাং হেং বলেন, যুদ্ধের সময় তারা নিয়মিত যুদ্ধবিমানের গর্জন ও হামলার সতর্ক সংকেত শুনতেন। তীব্র গরমের মধ্যেও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে।
তার মতে, যুদ্ধ সরঞ্জাম যেন পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করেছেন। তিনি এটিকে শুধু জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সক্ষমতার স্বীকৃতি নয়, বরং দুই দেশের যৌথ কাজের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন।
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে গত বছরের ২২ এপ্রিল পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে।
এর জেরে ৭ মে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানও। চার দিন ধরে চলা এ সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।
এর আগে ভারতের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান অভিযোগ করেছিলেন, সংঘাত চলাকালে চীন পাকিস্তানকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করেছিল। তবে তখন চীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছিল, পাকিস্তানের জে-১০ যুদ্ধবিমান অন্তত একটি ভারতীয় রাফাল ভূপাতিত করেছিল। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বার্তা বাজার/এস এইচ






