ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের বৈধতা দিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও সাদা দাগ টেনে হকারদের অবস্থান চিহ্নিত করছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপে স্থায়ী সমাধান দেখছেন না নগরবিদরা।
রাজধানীর ফুটপাত ও হকার যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেয়র ও প্রশাসকদের নানা পরিকল্পনা থাকলেও দিন শেষে ফলাফল শূন্যই থেকে যায়।
এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভিন্নধর্মী উদ্যোগ সবার নজর কেড়েছে। ফুটপাতের পাশাপাশি সংযোগ সড়কের মাঝখানে টানা হয়েছে সাদা দাগ। এর অর্থ, ডিএসসিসি থেকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র পাওয়া হকারদের নির্ধারিত অবস্থান হবে সেখানেই। গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে এমন দৃশ্য।
ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী বলেন, খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি-বাদলা, ঝড়-তুফানের মধ্যে এখানে কে দোকানদারি করতে আসবে? আবার দিয়েছে ৫০ ইঞ্চি করে জায়গা। মালামাল রাখব কোথায়, আমি দাঁড়াব কোথায়, আর বিক্রিই বা করব কীভাবে?
হকারদের কারণে ক্ষতির মুখে থাকা বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও নিজেদের অস্বস্তির কথা জানান।
এক ব্যবসায়ী বলেন, এখানে ২০-২৫টি মার্কেট রয়েছে। এটি একটি লিংক রোড। এখানে কখনো ফুটপাত ছিল না। কিন্তু যদি ফুটপাত বসানো হয়, তাহলে এ এলাকার ব্যবসার বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলছেন, হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, আমরা যেসব জায়গা তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাদেরকে অনুমতি দিয়েছি তাদের সেই জায়গাতেই যেতে হবে। অন্য কোথাও বসার সুযোগ নেই। যদি বসে, তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় সাদা দাগ টানা না হলেও হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করা হয়েছে। কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, অহেতুক আমাদের কথা কর্ণপাত না করে কেউ যদি জোর করে অবৈধভাবে বসতে চায়, তাহলে আইনের প্রয়োগ করে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। অর্থাৎ, তাদেরকে সেখানে অবৈধভাবে বসতে দেয়া হবে না।
তবে নগরবিদদের মতে, এসব পরিকল্পনায় স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। তারা পথচারী ও হকার—উভয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমীক্ষার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করার পরামর্শ দেন।
নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, আমরা পুরোনো পরিকল্পনাগুলোকেই ভেঙে নতুন বোতলে সাজাচ্ছি। এটি কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। এজন্য পুরো করিডোর ধরে প্রতিটি সড়ক ও অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে বিবেচনায় এনে পথচারীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পকেট এলাকায় হকারদের সংস্থান করতে হবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে চাঁদাবাজি বন্ধ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন এই নগরবিদ।
বার্তা বাজার/এস এইচ






