মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ‘গুপ্ত ছাত্রী সংস্থার নষ্টা নেত্রী’ আখ্যা দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব।
আজ রোববার ওই ছাত্রদল নেতা তাঁর ফেসবুক স্টাটাসে এমন মন্তব্য করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ছাত্রদল নেতা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, “এদের ধরে ধরে যদি কাঁচা কুনচি দিয়ে বানানো হতো তাহলে এরা মধ্য রাতে মব সৃষ্টি করার সাহস পেত না। এদের দেখে কি মনে হয় এরা সাধারণ শিক্ষার্থী? এরা মূলত গুপ্ত ছাত্রী সংস্থার নষ্টা নেত্রী।”
ফেসবুকে সমালোচনা করে শিক্ষার্থীরা লিখেন, “ওরা কেনো নষ্টা হবে? এ লাইন ডিলেট করো। বেশি বাড়াবাড়ি ভালো না। তুমি আদু ভাই ছাত্র দল করিস কোন হিসেবে?”
ফেসবুকে আরেক কমেন্টকারী লিখেন, “ভাই, এটাই আপনাদের বড় ব্যর্থতা আর জামাত শিবিরের সফলতা। গেঞ্জি পরা মেয়ে ছাত্রী সংস্থার কর্মী হবে এটা অসম্ভব। যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে এই তকমা দেওয়া হবে ঠিক তারা রাজপথে স্লোগান দিবে— ‘তুমি কে আমি কে গুপ্ত গুপ্ত’। যেমনটা জুলাই আন্দোলনে হয়েছে।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব বলেন, “এত রাতে থালাবাসন নিয়ে ক্যাম্পাসে মব করায় লেখাটা গুপ্তদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এত রাতে এভাবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে মাঠে নামতে পারে না। এগুলো অসভ্য জাতির কাজ। সেই অসভ্য গুপ্তদের উদ্দেশ্যে ‘নষ্টা’ শব্দ ব্যবহার করছি। বরং কোনো মা-বোনদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি।”
উল্লেখ্য, রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেন সাধারণ ছাত্রীরা। শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ আন্দোলন শুরু হয়।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না’—এমন স্লোগান দেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে তারা গেটে টানানো ছাত্রদলের ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা হোস্টেল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন এবং কলেজকে সব ধরনের দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখার দাবি জানান। পরে ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা প্রধান ফটকসহ কয়েকটি গেট ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব রাখা যাবে না।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






