ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

পদ্মা ব্যারেজে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, সেচ-বিদ্যুতে খুলবে নতুন দিগন্ত

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

পদ্মা ব্যারেজে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, সেচ-বিদ্যুতে খুলবে নতুন দিগন্ত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং লবণাক্ততার আগ্রাসন কমাতে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর নির্মিতব্য এ মেগা প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি দেশের বৃহৎ অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য দুই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পর্যায়ক্রমে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যারেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাংশা উপজেলা এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারেজ। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, ন্যাভিগেশন লক এবং গাইড বাঁধ। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, “এটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।”

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের ফলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের পটভূমি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মানির্ভর অঞ্চল দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৭ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত এবং সেখানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭০-এর দশকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-গঙ্গা থেকে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে সরিয়ে নেওয়া হয় কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষার জন্য। এর ফলে বাংলাদেশ অংশে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে যেতে শুরু করে।

ফলে কৃষি, মৎস্য, বনজ সম্পদ, নৌ-পরিবহন, গৃহস্থালি পানির প্রাপ্যতা এবং সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও খালে শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জীবিকা, জীববৈচিত্র্য এবং সুন্দরবন-এর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমিশন বলছে, বৃহত্তর রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এসব এলাকায় পদ্মাই ভূপৃষ্ঠস্থ মিঠাপানির প্রধান উৎস।

সূত্র: বাসস

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!