ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘স্যার, একটি গুলি করি, একটি মরে’ পুলিশ কর্মকর্তার বিস্ফোরক জবানবন্দি

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০২:১৭ এএম

‘স্যার, একটি গুলি করি, একটি মরে’ পুলিশ কর্মকর্তার বিস্ফোরক জবানবন্দি

‘স্যার একটি গুলি করি, একটি মরে, বাকিডি যায় না। এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়’ পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইলে দেখা একটি ভিডিও নিয়ে এমন মন্তব্যের দাবি করেছেন এক উপপরিদর্শক (এসআই)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত গুলি, মৃত্যু ও পুলিশি অভিযানের বিষয়ে দেওয়া তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১৬ নম্বর সাক্ষী।

নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে যাত্রাবাড়ী থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

সাক্ষী জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকালে তিনি ও সঙ্গীয় এএসআই রমজানসহ যাত্রাবাড়ী থানার পুরাতন ভবনের ছাদের ওপরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এমন সময় জানতে পারেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার সুদ্বীপ কুমার চক্রবর্তী ও ওয়ারি বিভাগের ডিসি ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ ওঠানোর জন্য যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন এবং পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওয়াহিদুল হক মামুনসহ আরও কর্মকর্তারা অবস্থান নেন। ওই দিন বিকেলে দায়িত্ব পালন শেষে থানা ব্যারাকে এলে পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্সদের মধ্যে তিনি বলাবলি করতে শোনেন যে, কাজলা এলাকায় একজন ছাত্রকে গুলি করেছেন জাকির হোসেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ২১ জুলাই আমি ও সঙ্গীয় এএসআই নির্মল চন্দ্র দাসের রাত্রিকালীন ফ্লাইওভার-৪৩ এ দায়িত্ব ছিল। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ও পুরাতন থানা ভবনের ছাদ কাছাকাছি হওয়ায় এএসআই বাবুল মিয়ার সঙ্গে একত্র হয়ে আমরা লোকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করি। দায়িত্ব শেষে ২২ জুলাই সকাল ৮টার সময় আমার নামে ইস্যুকৃত শটগান ও ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট অস্ত্রাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল আনোয়ার হোসেনের কাছে বুঝিয়ে দেই।

তিনি বলেন, ২৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার সামনে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম। ২৮ জুলাই সকালে যাত্রাবাড়ী থানার কম্পিউটার অপারেটরের কক্ষে গেলে ভুক্তভোগী মাইন উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনা আমাকে জানান এসআই মাহবুব হোসেন। তিনি আমাকে এ বিষয়ে এজাহার দায়ের করতে বলেন। তখন আমি তাকে বলি, ‘যেহেতু আপনি তার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন, সেহেতু আপনি এজাহার দায়ের করেন বা ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনকে করতে বলেন’। তখন ঘটনাটি যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসানকে জানান এসআই মাহবুব।

পরবর্তীতে এজাহার প্রস্তুত করেন আবুল হাসান ও কম্পিউটার অপারেটর সালাউদ্দিন। আমি সঙ্গীয় এএসআই শামীম হোসেনকে নিয়ে শনির আখড়া ফ্লাইওভারে দায়িত্ব পালনে চলে যাই। ওই সময় এই পুলিশ কর্মকর্তার সামনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান ডিসি ইকবাল। ভিডিও দেখিয়ে বলেন যে,‘স্যার একটি গুলি করি, একটি মরে, বাকিডি যায় না, এটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।’

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ মামলায় মোট আসামি ১১ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী।

পলাতকরা হলেন- ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন