ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ মঙ্গলবার সকালে ছিল উপচেপড়া ভিড়। সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে লালমনিরহাটগামী ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে। ট্রেনের ভেতরে আসন তো দূরের কথা, অনেক বগিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
তবে এরই মধ্যে কিছু বগি তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও, অসংখ্য মানুষকে ট্রেনের ছাদ ও গেটে চড়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রা করতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রেন ছাড়ার অন্তত আধাঘণ্টা আগেই বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ছাদ মানুষে ভরে যায়। কেউ ব্যাগ ধরে বসে আছেন, কেউ আবার পা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছাদের কিনারায়। একাধিক বগির গেটেও ঝুলে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের। ট্রেন ছাড়ার শেষ মুহূর্তেও অনেককে দৌড়ে এসে চলন্ত ট্রেনের গেট ধরে ওঠার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নিরাপত্তা কর্মীরা বাঁশি বাজিয়ে যাত্রীদের ছাদ থেকে নামানোর চেষ্টা করলেও বিপুল যাত্রীচাপের মুখে তারা এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েন।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদের সময় যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমরা সবাইকে নিরাপদে ভ্রমণের অনুরোধ করছি। ছাদে বা গেটে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
যাত্রীদের বড় একটি অংশের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা ও বগি পর্যাপ্ত নয়। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। রংপুরগামী যাত্রী কাদের মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগে টিকিট পাওয়াই কঠিন। এখন কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই হলো। ঝুঁকি আছে জানি, কিন্তু উপায় নেই।’
তবে ট্রেনের ভেতরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। কিছু বগিতে যাত্রীরা গাদাগাদি করলেও, কয়েকটিতে দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা ছিল। তারপরও অনেক যাত্রী ভেতরে না ঢুকে ছাদ বা গেটে অবস্থান নেন।
এর কারণ হিসেবে রংপুরগামী যাত্রী সেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভেতরে অনেক ভিড় মনে করে আগেই ছাদে উঠে গেছি। পরে শুনলাম কয়েকটা বগিতে একটু জায়গা আছে। কিন্তু এখন আর নামার সুযোগ নেই। আবার কেউ কেউ জানান, পরিবারের সবাই একসাথে বসার জায়গা না পেয়ে তারা বাইরে অবস্থান নিচ্ছেন।’
অনলাইনে টিকিট কেটে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন মো. ছলিম উল্লাহ। বুড়িমারী এক্সপ্রেসের এসি বগির এই যাত্রী ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার কথা জানান।
তিনি বলেন, অনলাইনে চেষ্টা করে আমরা টিকিট পেয়েছি। যারা একটু দেরি করে অ্যাপে ঢুকেছেন তারা হয়তো পাননি। তবে যারা ছাদে যাচ্ছেন, আমার ধারণা তারা ইচ্ছা করেই যাচ্ছেন। টিকিটের জন্য হয়তো তারা চেষ্টাই করেননি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






