ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বাংলাদেশি ৪ যুবককে রাশিয়ায় বিক্রির অভিযোগ জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

বাংলাদেশি ৪ যুবককে রাশিয়ায় বিক্রির অভিযোগ জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সহযোগী যুব সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই চার যুবকের পরিবার চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সম্প্রতি (পাঁচ দিন আগে) উপজেলা জামায়াত কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়া পাটগ্রাম উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী এবং পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে এই কাজ করেছেন।

পরিবারগুলোর দাবি, ঢাকা উত্তরার আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠালে সেখানে নিরাপদ ও বৈধভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে চার যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ভিসা, টিকিট ও চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলে টাকা নেন তারা।

পরবর্তীতে চলতি মাসের ৪ তারিখে পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের টেপুরগাড়ী এলাকার কৃষক দেলদার রহমানের ছেলে নাজমুল হক সৌরভ (২১), একই এলাকার কৃষক রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২১), একই ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার কৃষক আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২০) এবং একই এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে (২২) বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখান থেকে ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় বাহরাইন বিমানবন্দরে ১২ ঘণ্টার ট্রানজিট করা হয়। পরদিন ৮ মে সকালে তারা মস্কোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মস্কো পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে স্বাভাবিকভাবে কথা হয় যুবকদের। পরে রুশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তখন তারা জানতে পারেন, চাকরির পরিবর্তে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অভিভাবকেরা জানান, পণ্য সরবরাহকারীর (ডেলিভারি ম্যান) মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছেলেরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের জীবনঝুঁকির কথা জানিয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদে বার্তায় পরিবারের কাছে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানায় তারা।

পরিবারগুলোর দাবি, এ বিষয়ে ইউনুস ও মাহিনকে জানালে তারা প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যুবকেরা ভালো আছে এবং পরে ভিডিও কলে কথা বলবে। কিন্তু এরপর আর যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারগুলো আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ১৪ মে ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন সদস্য ঢাকার আর এস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির কার্যালয়ে যান। সেখানে এজেন্সির লোকজন কয়েকদিনের মধ্যে যুবকদের নিরাপদ স্থানে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

গত ২১ মে ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে পাটগ্রামের পরিবারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবার মানববন্ধন করে। এ সময় তারা তাদের সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

নাজমুল হক সৌরভের বাবা দেলদার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে ইউনুস সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এখন শুনছি সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা দিন-রাত দুশ্চিন্তায় আছি।’

মেহেদী হাসানের বাবা রাবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাশিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে ইউনুস আমার ছেলেকে পাঠিয়েছে। এখন ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সে নিখোঁজ।’

এ ঘটনায় পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামী অভিযুক্ত ইউনুস ও মাহিনকে গত ২০ মে উপজেলা ও পৌর যুব বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পাটগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পৌর জামায়াতের আমীর সোহেল রানাকেও দায়ী করা হয়।

অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী বলেন, ‘তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুই দেশের দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে আনার চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারগুলোর কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছি, সব মাহিনকে দিয়েছি। মাহিন এজেন্সিকে দিয়েছে।

অন্যদিকে মাহিন ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিবারগুলোর সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই। ইউনুসের সঙ্গে এজেন্সির পরিচয় থাকলেও পুরো কাজ সে নিজেই করেছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ শোয়াইব আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কোনো দায় নেই। এটি ব্যক্তিগত বিষয়। সংগঠন ঘটনা জানার পর তাদের দুজনকে অব্যাহতি দিয়েছে।

পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!