বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ করা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নজরদারি ও হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারাও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের অবস্থান শনাক্ত ও নজরদারিতে বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করছে প্রতিপক্ষ—এমন একাধিক হুমকির তথ্য পাওয়া গেছে।’
গত ১৪ এপ্রিল পাঠানো ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ না থাকলেও সেন্টকমের দায়িত্বাধীন অঞ্চলের মধ্যে পারস্য উপসাগরও রয়েছে, যেখানে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনাদের টার্গেট করতে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
আইনপ্রণেতাদের চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে সেনাদের অবস্থান, চলাচলের ধরন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম শনাক্ত করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা সড়কপাশে বোমা হামলার মতো আক্রমণ চালানো হতে পারে। পাশাপাশি পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমেও এ তথ্য কাজে লাগতে পারে।
সিনেটর রন ওয়াইডেন বলেন, ‘এখন সময় এসেছে বিজ্ঞাপনভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শিল্পকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার।’
সাধারণত স্মার্টফোন ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করা হয়, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব তথ্য পুনরায় সরবরাহ করে থাকে।
এর আগেও বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে মার্কিন সেনাদের গতিবিধি অনুসরণের ঘটনা সামনে এসেছে। ২০১৬ সালে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিরিয়ার একটি গোপন ঘাঁটি পর্যন্ত বিশেষ বাহিনীর চলাচল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উঠে আসে।
সম্প্রতি ওয়্যার্ড ও জার্মানির দুটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডেটা ব্রোকারদের সংগ্রহ করা কোটি কোটি লোকেশন তথ্য বিশ্লেষণ করে জার্মানিতে অবস্থিত ১১টি মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনার আশপাশে কর্মরত ব্যক্তিদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।
আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও পেন্টাগন সেনাদের সুরক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। তারা সামরিক ডিভাইসে বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী আইডি বন্ধ করা, মাঠপর্যায়ে স্মার্টফোনের লোকেশন শেয়ারিং নিষ্ক্রিয় রাখা এবং গুগলের ক্রোম ব্রাউজারের পরিবর্তে অধিক গোপনীয়তাসম্পন্ন বিকল্প ব্যবহারের সুপারিশ করেছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ও সাবেক স্পেশাল ফোর্স কর্মকর্তা প্যাট হ্যারিগান বলেন, ‘ক্রোমের মতো ব্রাউজারগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ ও শেয়ার করার জন্যই তৈরি। সরকারি ডিভাইসে এগুলো ব্যবহার মানে প্রতিপক্ষের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া।’
তবে গুগলের মালিক প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট দাবি করেছে, ক্রোমে ‘শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ রয়েছে। একইসঙ্গে ডেটা ব্রোকারদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নীতিমালার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: রয়টার্স
বার্তা বাজার/এস এইচ






