ঢাকা   শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মোদির প্রচেষ্টা যেভাবে ‘উল্টো ফল’ দিল

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মোদির প্রচেষ্টা যেভাবে ‘উল্টো ফল’ দিল

বক্তৃতামঞ্চে মুষ্টি ঠুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের নেতাদের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। সন্ধ্যা নামার মুহূর্তে দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কেরালায় সমর্থকদের এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিচ্ছিন্ন করতে ভারত সফল হয়েছে, এবং আমরা সেই প্রচেষ্টা আরও জোরদার করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করব যে আপনারা সারা বিশ্বে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।’

এটি ছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস। মোদি কয়েকদিন আগে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সশস্ত্র যোদ্ধাদের এক হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছিলেন, যে ঘটনায় ১৮ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়। মোদি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের নেতাদের শোনা উচিত আমাদের ১৮ জন সেনার আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।’

অথচ মোদির সেই ঘটনার এক দশক পরেও পাকিস্তান মোটেই বিচ্ছিন্ন নয়।এটি চীনের এক ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র, যেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলতি সপ্তাহে সফর করেছেন, এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং শরিফ উভয়েই গত এক বছরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে ইসলামাবাদই প্রধান মধ্যস্থতাকারী। ট্রাম্পও প্রায়শই পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি আংশিকভাবে ট্রাম্পকে তুষ্ট করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সাফল্যের প্রতিফলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে পরাশক্তি ও আঞ্চলিক শক্তি উভয়ের কাছেই নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ফল। কিন্তু একইভাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক মর্যাদা মোদি প্রশাসনের ভুল পদক্ষেপেরও ফল।

আটলান্টিক কাউন্সিল থিঙ্ক ট্যাঙ্কের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান আল জাজিরাকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে, আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী পাকিস্তানকে দুর্বল করা এবং বিচ্ছিন্ন করার ভারতের কৌশলটি বড় আকারে ব্যর্থ হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি এবং নোবেল মনোনয়ন

২০২৫ সালের ১০ মে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্রধর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ এক রাতের আলোচনার পর, আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে ভারত ও পাকিস্তান একটি পূর্ণাঙ্গ এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।’

এর কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চার দিন ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের অবসান ঘটানোর এই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ‘নেতৃত্ব এবং সক্রিয় ভূমিকার” জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। কয়েক দশকের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই। এ যুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যে হামলার কারণে মূলত ২০২৫ সালের মে মাসের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তাতে পাকিস্তানের ভূমিকার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বোঝাতেও নয়াদিল্লি ব্যর্থ হয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের কুগেলম্যান বলেন, বিশ্বের রাজধানীগুলো লক্ষ্য করেছে যে, পহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ ভারত দিতে পারেনি। তিনি বলেন, পাকিস্তান এ আখ্যানের বৈশ্বিক লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যে একটি সংঘাতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে এবং বেশ কয়েকটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে পেরেছে… এই বিষয়টি হোয়াইট হাউসসহ সারা বিশ্বে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিজেদের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার বিষয়ে নয়াদিল্লির নীরবতা সেই ধারণাকে আরও জোরদার করে। দেশটির শীর্ষ জেনারেল অবশেষে স্বীকার করেন যে পাকিস্তান বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যদিও ভারত কখনও এর সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কৃতিত্ব দিতে মোদির অস্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি অর্জনে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে দ্রুত স্বীকার করে নেয় এবং এমনকি তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীতও করে। পুরস্কারটি নিজের প্রাপ্য ছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানকে “প্রতারণা ও মিথ্যাচারের” জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। তবে এরপর থেকে তিনি বারবার পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন, যার মধ্যে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও রয়েছেন। যিনি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

ভারতের আরো হতাশার কারণ হলো ট্রাম্প মুনিরকে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানান। প্রথমবারের মত কোনো পাকিস্তানি সামরিক প্রধান কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের আতিথেয়তায় আমন্ত্রিত হন। ট্রাম্প মুনিরকে তাঁর “প্রিয় ফিল্ড মার্শাল” এবং একজন “অসাধারণ মানুষ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসাথে চলতে পারে না’

কয়েক দশক ধরে ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে “কৌশলগত সংযমের” নীতি অনুসরণ করে আসছিল।

১৯৯০-এর দশকে ভারত যখন তার অর্থনীতি উন্মুক্ত করে, তখন এটি নিজেকে অর্থনৈতিক বিষয়ে মনোযোগী একটি দায়িত্বশীল উদীয়মান শক্তি হিসেবে তুলে ধরে। ভারত কূটনীতি এবং তার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাবকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে আগ্রহী ছিল নয়াদিল্লি।

এই নীতির কারণেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ভারত ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার জবাবে পাকিস্তান আক্রমণ করা থেকে বিরত ছিল। মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধী দলে থাকাকালীন কংগ্রেসের এই সংযমের তীব্র সমালোচনা করে।

তবে ক্ষমতায় আসার পর মোদিও প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মোদি তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানান এবং শরিফের নাতনির বিয়েতে যোগ দিতে লাহোর সফর করেন।

এর মোদি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী করে দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াস চালান। ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসাথে চলতে পারে না’—এটাই মোদি সরকারের মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছিল।

এর পরিবর্তে, পাকিস্তানকে মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাত্রা তারা কমিয়ে এনেছিল। ২০১৬ সালের হামলার পর, ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের ভেতরে হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, এই শিবিরেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করত।

এরপর, ২০১৯ সালে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় ৪০ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় যুদ্ধবিমান হামলা চালায়।

বহু বছর ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান কার্যকর বলেই মনে হচ্ছিল। যার মধ্যে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনেও পরিস্থিতি একই ছিল। মোদি প্রায়শই ওয়াশিংটনে যেতেন। ট্রাম্প এবং বাইডেন দুজনেই ভারত সফর করেন। কিন্তু কেউই পাকিস্তানে যাননি।

গত বছরের সামরিক সংঘাতের পর, সেই সমীকরণগুলো বদলাতে শুরু করে। ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে ২০ বছরেরও বেশি সময়ের কৌশলগত সম্পর্ক ইতিমধ্যেই চাপের মুখে পড়েছে। সে সময়ে ভারতের ওপর বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।

এরপর বাণিজ্য আলোচনায় শুল্ক কমে এসেছে। কিন্তু উত্তেজনা এখনও রয়ে গেছে।

গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘ভারতকে ভালোবাসেন, মোদিকে ভালোবাসেন।’ কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্যের বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

গত ২৩ মে রুবিও এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা এমন এক সময়ে ঘটল যখন নয়াদিল্লির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে। উপরন্তু, রুবিও তাদের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার কথা উল্লেখ করে ভারতের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপকে ন্যায্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।

বাধা ও পরিবর্তন

২০১৪ সালের মে মাসে মোদি যখন প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মোদি তার পররাষ্ট্রনীতিকে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা হিসেবে বর্ণনা করেন।

কিন্তু দুই বছর পর, ২০১৬ সালের হামলায় ভারতীয় সৈন্যরা নিহত হওয়ার পর, মোদি সরকার ঘোষণা করে যে তারা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন বর্জন করবে, কারণ এর আয়োজক ছিল ইসলামাবাদ।

এরপর শীর্ষ সম্মেলনটি বাতিল করা হয়েছিল। এবং তারপর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রধান জোটটি তার নেতাদের কোনো বৈঠক হয়নি। এর পরিবর্তে, ভারত বিমস্টেককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, যা পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর একটি জোট। কিন্তু এটি একটি শক্তিশালী মঞ্চে পরিণত হতে পারছে না।

ইসলামাবাদের কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ভারত কার্যকরভাবে সার্ককে পরিত্যাগ করেছে।

এদিকে, ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতি ঘটেছে।

চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক

দুই দেশই দীর্ঘকাল ধরে দৃঢ় কৌশলগত অংশীদার। তবে গত বছরের সংঘাতের সময় তা আরও সামনে আসে। পাকিস্তান চীনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পাকিস্তান সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশটির সঙ্গে বেইজিংয়ের “অটুট” সম্পর্কের প্রশংসা করেন।

ব্রাসেলস-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক প্রবীণ দোনথি আল জাজিরাকে বলেন, গত দশকে, ভারত তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে বিশ্ব মঞ্চে আরও আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠেছে এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ, মূলত জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসে আরও ‘লেনদেনমূলক’ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।

সেই নীতি থেকে সরে আসার প্রথম লক্ষণ দেখা যায় মোদীর পূর্বসূরি, কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে। ২০১৩ সালে, যখন ওবামা প্রশাসন পারমাণবিক আলোচনার মধ্যে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশগুলোকে ইরানের তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছিল, তখন ভারতও ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা কমিয়ে দেয়।

কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর, মোদি সরকার ইরানের তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার ২২ এপ্রিল লিখেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞাগুলো শুধু ভারতের অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না। এগুলো ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে অন্যের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করাতে চায় এবং এর গর্বিত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নীতির ওপর একটি আঘাত।’

ইসরাইল ও ইসলামোফোবিয়া

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতও তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

১৯৭৪ সালে নয়াদিল্লিই ছিল প্রথম অনারব রাজধানী, যা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে বা পিএলওকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতিদানকারী বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।

ভারত ইসরেইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ১৯৯২ সালে, যদিও এর বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশটি বিশেষত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গোপনে সহযোগিতা করে আসছিল।

শীতল যুদ্ধের পরবর্তী দুই দশক ধরে, ভারত ধীরে ধীরে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি দৃঢ় ও সোচ্চার সমর্থনের মাধ্যমে এর ভারসাম্য বজায় রাখে।

তবে মোদির শাসনামলে ভারত ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতা হয়ে উঠেছে। নয়াদিল্লি ইসরাইলবিরোধী জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো থেকে ক্রমশ বিরত থাকছে।

গত মাসে ব্রিকস জোটের এক শীর্ষ সম্মেলনে, ভারত ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত সংক্রান্ত ভাষা শিথিল করার চেষ্টা করে, যা তথাকথিত দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বিষয়ে তার ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে একটি বিচ্যুতি। গাজায় সংঘটিত গণহত্যার একবারও নিন্দা জানায়নি মোদি সরকার।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার মাত্র দুই দিন আগে মোদি ইহুদিবাদী দেশটি সফর করেন। এই সফর এমন এক সময়ে হয়, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো এই সফরকে “অসময়ের” বলে অভিহিত করেছে, কারণ তাদের যুক্তি ছিল যে এটি এই অঞ্চলে ভারতকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট পক্ষ হিসেবে তুলে ধরবে।

ইসরাইলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কারণে ইরান যুদ্ধ ভারতকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিজের বন্ধু বলে অভিহিত করা মোদির অধীনে ইসরাইলের প্রতি এই প্রকাশ্য সখ্যতা উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে পাকিস্তানের অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে। ঠিক একই সময়ে পাকিস্তান তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করেছে।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে, লেবানন ও ইরানের ওপর ইসরাইলের একাধিক যুদ্ধ এবং কাতার ও সিরিয়ায় বোমা হামলার প্রেক্ষাপটে, উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার ওপর তাদের চিরাচরিত নির্ভরতার বাইরে তাকাচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বরে, সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্রধারী একমাত্র মুসলিম দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণা করে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এবং এই অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি তুরস্কও সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।

গত বছরের মে মাসে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের সাফল্য একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এরপর থেকে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে চীনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এদিকে ভারতে মোদি সরকারের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মুসলিমবিরোধী নীতি বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছেল। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মাঝেমধ্যে তিরস্কারের কারণ হয়েছে নয়াদিল্লি।

২০২২ সালের মে মাসে, বিজেপির তৎকালীন মুখপাত্র নূপুর শর্মা মহানবী সা. এর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তখন ভারতীয় দূতদের তলব করে প্রকাশ্য নিন্দা জানানো হয়েছিল। মুসলিম বিশ্বের ক্ষোভ প্রশমিত করতে বিজেপি এই ঘটনার পর শর্মাকে একঘরে করে দেয়।

২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমদের গণপিটুনি, মসজিদ ধ্বংস, রাষ্ট্রীয়ভাবে ভোটাধিকার হরণ এবং মুসলিমর নামাজ ও উৎসবের উপর দমনপীড়ন চালাতে থাকে। মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই মুসলিম-বিরোধী হামলাগুলোকে ব্যবহার করেছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বে ইসলামাবাদ জাতিসংঘে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছিল। ১৫ মার্চকে ‘ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য জাতিসংঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশটি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির সঙ্গে সমন্বয় করে একটি প্রচারণার নেতৃত্ব দিয়েছিল।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই মুম্বাইয়ে মুসলিমদের গণপিটুনির ঘটনার প্রতিবাদে মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। ২০১৪ সালে মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে গবাদি পশুর ব্যবসা বা গরুর মাংস খাওয়ার সন্দেহে কয়েক ডজন মুসলিমকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, সেনাপ্রধান মুনির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শরিফের সাথে ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন। গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে মায়ামিতে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক দূত মাসুদ খান বলেছেন, বিশেষ করে মে মাসের যুদ্ধের পর গত এক বছরে ইসলামাবাদ তার “সুচতুর কূটনীতির” কারণে ওয়াশিংটনে ব্যাপক সুবিধা অর্জন করেছে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প ও আসিম মুনিরের মধ্যে এই সৌহার্দ্য আরও জোরদার হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য, এই সৌহার্দ্য বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অবিশ্বাস ভাঙতে সাহায্য করেছে। এটা তথাকথিত “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ”-এর সময় থেকে চলে আসছিল।

কায়েদে-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহমদ আল জাজিরাকে বলেন, ভারত ধরে নিয়েছিল যে পাকিস্তান সম্পর্কে তাদের ৯/১১-পরবর্তী বয়ান স্থায়ী হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এর পরিবর্তে ইসলামাবাদ নীরবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করতে শুরু করে, যার মধ্যে ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা।

তিনি বলেন, পাকিস্তান কয়েক দশকের চরমপন্থী পাল্টা আক্রমণ থেকে বেদনাদায়কভাবে শিক্ষা নিয়েছে এবং আদর্শগত সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, সংযোগ এবং অর্থনৈতিক একীকরণের দিকে নিজেকে ক্রমবর্ধমানভাবে পুনঃস্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, এখন পাকিস্তানকে কেবলমাত্র সংকটের প্রতিক্রিয়াকারী একটি দেশ হিসেবে নয়। বরং আঞ্চলিক ফলাফল নির্ধারণকারী একটি দেশ হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে দেখা হচ্ছে।

“পাকিস্তান এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যারা একই সাথে ওয়াশিংটন, তেহরান, রিয়াদ এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে সম্পৃক্ত হতে সক্ষম। এটা ৯/১১-পরবর্তী সময়ের তুলনায় দেশটির বর্তমান অবস্থানকে অনেক বেশি টেকসই করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারত তার পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাগুলো স্বীকার করে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত তিন মাসে উভয় দেশের প্রাক্তন সেনা জেনারেল এবং অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিকরা দুইবার বৈঠক করেছেন।

বিজেপির আদর্শিক মাতৃ সংগঠন কট্টরপন্থি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন শীর্ষ নেতা পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করার পক্ষে কথা বলেছেন। ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানেও সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন।

এর আগে মোদি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি দ্বিপাক্ষিকভাবে মধ্যস্থতার মাধ্যমেই হয়েছে। সে সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান।

প্রায় এক বছর পরেও ট্রাম্প এখনও ভারত সফর করেননি, যদিও তিনি গত সপ্তাহে চীন সফর করেছেন এবং বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তানে যেতে প্রস্তুত। বিষয়টি সবসময় এমন ছিল না।

গত সিকি শতাব্দীতে চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট—জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, স্বয়ং ট্রাম্প এবং জো বাইডেন—ভারতের সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ওয়াশিংটন একশ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার ভারতকে উদীয়মান চীনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছিল। চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টই ভারত সফর করেছেন; ওবামা এসেছিলেন দু’বার। এর বিপরীতে বুশের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তান সফর করেননি।

চীনকে প্রতিহত করার অভিন্ন স্বার্থের অংশ হিসেবে, ভারত ও মার্কিন নেতারা তাদের দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করেন। ঐতিহাসিকভাবে তার অস্ত্র ব্যবস্থার সিংহভাগের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে ক্রমশ জেট বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য অস্ত্র কেনা শুরু করে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রতিহত করার অব্যক্ত কিন্তু প্রচ্ছন্ন লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে চতুর্পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপ বা কোয়াড গঠন করে।

কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তিনি এশিয়ার দিকে অনেক কম মনোযোগ দিয়েছেন।

ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে ১৩ মে ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ পত্রিকায় লিখেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। এই জোটের নেতাদের একটি শীর্ষ সম্মেলনের জন্র মোদি ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তা আর েকখনও অনুষ্ঠিত হয়নি এবং এটি পরবর্তীতে কবে অনুষ্ঠিত হবে তাও স্পষ্ট নয়। যদিও মার্কো রুবিও নয়াদিল্লিতে থাকাকালে কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

গোখলে লিখেছেন, দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবিকাশমান ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সঙ্গে ভৌগোলিকভাবে ভারত খাপ খায় না। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার বৃহত্তর দায়িত্ব বহনে নয়াদিল্লি অনিচ্ছুক এবং এর সক্ষমতারও অভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিকল্পের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কৃতিত্ব দিতে মোদির অস্বীকৃতি তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে তিক্ত করে তুলেছে ।

ট্রাম্প ভারতকে সংরক্ষণবাদের জন্যও অভিযুক্ত করেছেন। সস্তা রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে নয়াদিল্লির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং ইরানে ভারতের একটি বড় বন্দর প্রকল্পের জন্য নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করেছেন। তার প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে, যা থেকে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীরা একতরফা লাভবান হতেন। আর ট্রাম্প সমর্থকদের একাংশ ভারতীয়দের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বর্ণবাদী মন্তব্য করার দিকে ক্রমশ ঝুঁকে পড়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!