যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগন তাদের মূল প্রেস অফিসে পেশাদার সাংবাদিকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী, প্রতিরক্ষা খাত ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রমে গণমাধ্যমের স্বাধীন প্রবেশাধিকার ক্রমান্বয়ে সীমাবদ্ধ করার যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (১ জুন) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ এই নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানান, প্রতিরক্ষা দপ্তরের মূল প্রেস অফিসটিকে এখন থেকে একটি উচ্চ নিরাপত্তা সংবলিত ‘সেন্সিটিভ কমপার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি’ বা এসসিআইএফ হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ওই নির্দিষ্ট অফিসটিতে সামরিক বাহিনীর এমন কিছু উচ্চপদস্থ স্পিচরাইটার বা ভাষণ লেখক কাজ করছেন, যাদের রাষ্ট্রীয় অত্যন্ত শ্রেণিবদ্ধ ও গোপন সরকারি তথ্যে সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি আরও স্পষ্ট করেন, এই স্পিচরাইটাররা নিয়মিত অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পরিচালনা করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজের স্বার্থে তাদের ‘সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকল অ্যাক্সেস’ প্রয়োজন হয়, যা মূলত পেন্টাগনের ব্যবহৃত সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
এই কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই সাধারণ সাংবাদিকেরা আর পূর্বের মতো ওই অফিসে সরাসরি প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে প্রতিরক্ষা সচিবের মূল জনসংযোগ দপ্তর এবং প্রেস সেক্রেটারির নিজস্ব প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ একেবারে বন্ধ হচ্ছে না, তবে সেখানে যাতায়াত করতে হলে এখন থেকে কেবলমাত্র পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা বিশেষ অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল, নতুন প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বা সাংবাদিক স্বীকৃতি নিয়ম নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের দায়ের করা মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায় আসার পর থেকে পেন্টাগন ভবনে আর কোনো গণমাধ্যম সংস্থাকে স্থায়ী অফিস রাখতে দেওয়া হবে না।
এর পাশাপাশি পেন্টাগন কমপ্লেক্সের ভেতরের সাধারণ সাংবাদিকদের স্বাধীন চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এখন থেকে সার্বক্ষণিক সরকারি এসকর্ট বা নিরাপত্তা প্রহরী সাথে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বৈষম্যমূলক এই সরকারি এসকর্ট নীতি বাতিলের দাবিতে নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন আদালতে ইতিমধ্যেই একটি পৃথক মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ও সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংবাদিক সংগঠন ‘ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব’ পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর উদ্বেগজনকভাবে সীমাবদ্ধতা বৃদ্ধির একটি মারাত্মক নেতিবাচক ইঙ্গিত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মার্ক শোফ জুনিয়র এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যখন মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সংবাদ কাভার করার মূল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে অন্যায়ভাবে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, তখন সাধারণ জনগণ কম তথ্য, কম স্বচ্ছতা এবং কম নজরদারির সুযোগ পায়। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সংবাদ প্রবেশাধিকার সীমিত করার এমন প্রতিটি পদক্ষেপই সামগ্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।
সূত্র: আল জাজিরা






