ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সার্বভৌমত্বের চেতনার পরিপন্থী, অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: যুব মজলিস

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সার্বভৌমত্বের চেতনার পরিপন্থী, অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: যুব মজলিস

সম্প্রতি বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দেওয়া চরম আপত্তিকর, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভারতের একপেশে ন্যারেটিভের পক্ষে সাফাই গাওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ (০৪ জুন ২৬ঈ) বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান, সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ এবং মাওলানা জাকির হোসাইন এই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও বেদনাদায়ক ইস্যুগুলোর মধ্যে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড অন্যতম প্রধান। বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে নির্বিচারে সাধারণ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে আসছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পরই বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে চোরাচালান বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেনা অজুহাত দাঁড় করা হয়। এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদের সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার চেষ্টা এবং ভারতের অজুহাতকেই প্রকারান্তরে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, মানবতাবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌমত্বের চেতনার পরিপন্থী।

তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অপরাধী বা চোরাচালানের অভিযোগে বিএসএফ-এর হাতে কোনো বাংলাদেশি মারা গেলে তা ‘বর্ডার কিলিং’ হবে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রকারান্তরে বিএসএফ-এর বন্দুকযুদ্ধের সংস্কৃতি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনি ও নৈতিক বৈধতা দেওয়ার শামিল। যেকোনো সভ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বর্ডারে কেউ অপরাধ বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে বিচার করার নিয়ম রয়েছে, দেখামাত্র গুলি করে হত্যা করার কোনো লাইসেন্স কারও নেই। তার এই বিতর্কিত সংজ্ঞা মেনে নিলে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সীমান্তে বিএসএফ-এর চালানো প্রতিটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডকেই বৈধতা দিতে হয়, যা দেশের কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিক কখনো মেনে নিতে পারে না।

নেতৃবৃন্দ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই ধরনের আত্মঘাতী বক্তব্যের পরদিনই সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশবাসীকে আরও বেশি ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। দেশের সীমান্ত পাহারা ও নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্বে থেকে যারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতিকে আড়াল করতে চান, তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কতটুকু দিতে পারবেন—তা নিয়ে আজ বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নেতৃবৃন্দ সালাহউদ্দিন আহমেদকে তার বাংলাদেশবিরোধী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশপ্রেমিক জনতাকে নিয়ে সীমান্তের এই অন্যায় হত্যাকাণ্ড এবং একে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলার হুশিয়ারি জানান।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!