বহুল আলোচিত অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান আলোচনায় এবার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আজ (৬ জুন) এক পোস্টে তিনি মহিষটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রাণীটির প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানান।
পোস্টে আসিফ আকবর লেখেন, ‘এই বাফেলো’টার জন্য মানুষের নরম মন কাঁদছে। দেশে কত দুঃসহ ঘটনাই তো ঘটছে! আরও অসহ্য অনেক কিছুই হবে! এ মহিষটা তো জানে না তার দোষ কী! সে একটা আদুরে পরিবেশে বেড়ে উঠেছে, ভবিষ্যৎ জানি না। অনেক মারপ্যাঁচের মধ্যেও তার জীবনটা যেহেতু এখনো আছে, প্লিজ তাকে খামারির কাছে পৌঁছে দিন। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ রইলো, প্লিজ এ অবুঝ প্রাণীটার প্রতি রহম করুন। মানুষের মনের ছোট্ট অনুভূতিগুলোও বেঁচে থাকুক। প্লিজ!’
এদিকে বর্তমানে আলোচিত এই অ্যালবিনো মহিষটি ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত জনসমাগম ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং বিরল প্রাণী হিসেবে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কেরানীগঞ্জ থেকে মহিষটিকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রথমে মহিষটিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় এবং পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরিচর্যা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে প্রাণীটি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
ঈদুল আজহার দিন থেকেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষকে দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় এর খাঁচার সামনে বেশি ভিড় হচ্ছে বলে জানান দর্শনার্থীরা।
অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ছবি ও ভিডিও দেখে চিড়িয়াখানায় আসছেন বলে জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার এর অদ্ভুত সাদা রং ও মাথার বিশেষ ধরনের চুলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান জানান, নতুন ও বিরল প্রাণী হওয়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। পরিবহনের সময় সামান্য আঁচড়ের চিহ্ন থাকলেও বর্তমানে প্রাণীটি সুস্থ রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটি আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হতো। অস্বাভাবিক সাদা রং ও বিশেষ গঠনের কারণে এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বার্তা বাজার/এস এইচ






