দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় গত ১১ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। আজ রোববার সকালে রেমিট্যান্স যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম এবং মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ আজ ভোরে দেশে পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত থেকে মরদেহ দুটি গ্রহণ করেন।
পরে তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
নিহত শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা আফসার আলী এবং মা আজেয়া খাতুন। অপরজন মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ একই জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. আব্দুল কাদের এবং মা নূরনাহার খাতুন। তাঁরা উভয়েই দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে কর্মরত ছিলেন এবং নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন।
মরদেহ দুটি বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কিউআর-০৪২৭ ৫ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। পরে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কিউআর-০৬৪২–এ স্থানান্তর করার হয়। এরপর দুজনের মরদেহ আজ রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দূতাবাস সংশ্লিষ্ট লেবানিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্টিফায়েড পুলিশ রিপোর্ট, মরদেহ দেশে পাঠানোর অনুমতিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, লেবাননে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






