ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নয়জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রোববার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বর্তা গ্রামের ছাইদুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৮), ভান্ডাব গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে নাজিম উদ্দিন (২৫), একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), নয়নপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মেহেদী হাসান আলাল (৩৫), কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ইকবাল তালুকদার (৩০), নারাঙ্গি গ্রামের অতুল চন্দ্র ঘোষের ছেলে রণি চন্দ্র ঘোষ (৩৭), পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত কামরুজ্জামান মানিকের ছেলে ইমন শেখ (২৮), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামত আলীর ছেলে ফারুক হাসান মণ্ডল (৩৮) এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ছোট কাশর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মনির হোসেন (২৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আফসানুল ইসলাম খান রাফির নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী একটি ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। একই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ওই এলাকায় পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা ছাত্রদল।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, মিছিলের ঘটনায় শনিবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফজল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বার্তা বাজার/এস এইচ






