সদ্য প্রত্যাহারকৃত সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরওয়ার আলম সিলেট ছেড়ে যাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এই সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্ট্যাটাসে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও এর মাধ্যমে সিলেটের সঙ্গে নিজের দায়িত্বকালীন অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিদায়বেলায় তিনি সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই ফেসবুকে অসংখ্য মানুষ প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকেই মন্তব্যে সরওয়ার আলমের সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করেন। কেউ কেউ তাকে পুনরায় সিলেটে ফিরে আসার আহ্বানও জানান।
মন্তব্যে শাহিদ হাতিমি নামে একজন লিখেন, আপনার জন্য নিরন্তর দোয়া ও শুভকামনা। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই আপনি ফিরবেন আবার আমাদের সিলেটে।
সাংবাদিক কাওসার চৌধুরী লিখেছেন, ‘আপনার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আপনার জন্য শুভকামনা।
নাট্যশিল্পী বেলাল আহমদ মুরাদ লিখেছেন, আফসোস, আমরা কিছুই করতে পারলাম না। কিন্তু আপনি সিলেটের মানুষের চোখ খুলে দিয়ে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। মাজারের টাকার স্বচ্ছ হিসাব থাকলে মসজিদ, মাদ্রাসা, ফকির, খাদেম সবারই উপকার হবে, বৈষম্য দূর হবে। আপনাকে আমরা মনে রাখব।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আবু সাইদ লিখেছেন, আপনার সঙ্গে যে কয়বার মিটিংয়ে বসেছিলাম, সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। আপনার এটিচিউড, এক্সপ্রেশন এবং স্পষ্টভাষী কথাবার্তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আপনি ইনশাআল্লাহ আবার সিলেটে আসবেন, বিভাগীয় কমিশনার হয়ে।
প্রসঙ্গত, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রত্যাহার করা হয়। সারওয়ার আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সরওয়ার আলম। দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। বিশেষ করে সম্প্রতি হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ, দানপাত্র সিলগালা এবং দান ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পদক্ষেপ সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে তার প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






