মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাম্প্রতিক অধ্যায়কে অনেকেই কেবল একটি সামরিক যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু পর্দার আড়ালের কূটনীতি, ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কের টানাপোড়েন, পাকিস্তানের অস্বাভাবিক সক্রিয়তা এবং যুদ্ধবিরতির পেছনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন একটি চিত্র সামনে আসে। এটি এমন একটি চিত্র, যেখানে পাকিস্তান শুধু একটি মুসলিম রাষ্ট্র নয়, বরং এমন এক মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার ভূমিকায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত হিসাব-নিকাশে বড় ধাক্কা লেগেছে।
ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক ও আদর্শিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ধারণা বিদ্যমান, আর সেটি হলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ ধারণা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এটি নিয়ে বহুবার কথা বলেছেন। মূলত অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌশলগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চিন্তার সঙ্গে এই ধারণার যোগসূত্র রয়েছে।
আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিল ইরান। এই অঞ্চলে বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে মদদ দিয়ে, নিজেদের পরমাণু গবেষণা ও সামরিক সক্ষমতায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করার মাধ্যমে ইসরায়েলের স্বপ্ন পূরণে তেহরান অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর এ কারণে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলাই ছিল নেতানিয়াহুর অন্যতম লক্ষ্য। তবে, একার পক্ষে এত বড় শক্তিকে কোণঠাসা করার সক্ষমতা নেই তেল আবিবের। তাই ভুল বুঝিয়ে হোক বা চাপ দিয়ে- ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে হুমকি বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ময়দানে টেনে নিয়ে আসেন নেতানিয়াহু।
কিন্তু তাতেও মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি। শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হারালেও বরং ইরানের কথার দাম বেড়েছে, শাসন ব্যবস্থা টিকে আছে এবং নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এর মধ্যেই সংকট সমাধানে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে পরিস্থিতিকে শান্ত করেছে পাকিস্তান। এখন চলছে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা। আর এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূই থাকলে তেল আবিবের বৃহৎ পরিকল্পনা ভেঙে টুকরো টুকরো হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে বড় ফাটল ধরার সম্ভাবনাও থাকবে।
ইরানকে ঘিরে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ যুদ্ধ
ইরানকে দুর্বল করতে এবং পশ্চিমাদের সমর্থন পেতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায় দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কথাই বলে আসছেন, আর তা হলো- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সাল থেকে শুরু করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, মার্কিন কংগ্রেস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তিনি বারবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ইরান পারমাণবিক চুক্তির বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। যদিও, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় অগাধ প্রবেশাধিকার ছিল জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ)। এছাড়া তেহরানও বারবার জানিয়েছে, তারা কখনই পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না, তাদের এই প্রকল্প কেবলই শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও সাধারণ মানবিক কাজের জন্যই প্রতিষ্ঠিত।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ও তেল আবিবের অবস্থান ছিল একই। ইসরায়েল দাবি করে, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য। তবে প্রশ্ন হচ্ছে- যদি শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিই লক্ষ্য হয়, তাহলে কেন ইরানের সামরিক নেতৃত্ব, নিরাপত্তা অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা এবং কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও হামলার আওতায় আনা হলো?
মূলত তেহরানকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করা গেলে শুধু একটি প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র নয়, বরং লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সিরিয়ায় ইরানের প্রভাববলয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে যখন ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার তালিকায় যুদ্ধের চেয়ে আলোচনার বিষয়টি সামনে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইসরায়েলের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকলেও পরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে গালমন্দও করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ‘পাগল’ বলেও সম্মোধন করেছেন তিনি।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে একাধিকবার ইঙ্গিত দেয়া হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা ওয়াশিংটনের স্বার্থে হলেও পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। ফলে প্রথমবারের মতো এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে হোয়াইট হাউস ও তেল আবিব একই কৌশলগত অবস্থানে দাঁড়িয়ে নেই।
নীরব কূটনীতি
সংঘাত যখন চরমে, তখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতার এবং ওমানকে ঘিরে একাধিক গোপন যোগাযোগের খবর সামনে আসে। এই যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানো এবং যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অস্বাভাবিক মাত্রায় যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজেই স্বীকার করেন, গত কয়েক মাসে তিনি বিশ্বের অন্য যে কোনো নেতার চেয়ে আসিম মুনিরের সঙ্গে বেশি কথা বলেছেন। ওয়াশিংটন, রিয়াদ, দোহা এবং তেহরানের সঙ্গে একযোগে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতা পাকিস্তানকে একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কেন পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ইসরায়েলের জন্য অস্বস্তিকর
প্রথমত, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে টিকে যাওয়া ও তাদের শাসন ব্যবস্থার আরও শক্ত অবস্থান; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যোগাযোগের দরজা খুলে যাওয়া; তৃতীয়ত, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি- ইসরায়েলের কট্টর নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কারণ, তেহরান যদি বিচ্ছিন্ন না থাকে, যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক উন্নত হয়, যদি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক সমঝোতা গড়ে ওঠে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতভিত্তিক কৌশলের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। পাকিস্তান কার্যত সেই প্রক্রিয়াটিকেই এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে।
এছাড়া যুগ যুগ ধরেই পাকিস্তানকে শত্রু হিসেবে দেখ আসছে ইসরায়েল। পাকিস্তান ও ইসরায়েলের মধ্যে কখনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি ইসলামাবাদ। অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলেও পাকিস্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সম্প্রতি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে বিশ্বাস করি না। পাকিস্তান অতীতে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে এবং এখনো ইসরায়েলের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেয়নি।’ তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বক্তব্যের বাইরেও আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি সম্প্রতি লিখেছেন, ‘ইরান দুর্বল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা মূলত তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে পারে।’ অর্থাৎ, ইসরায়েলের কৌশলগত মহলের একটি অংশ পাকিস্তানকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবেই দেখছে।
সৌদি-পাকিস্তান সমীকরণ এবং নতুন বাধা
ইসরায়েলের আরেকটি উদ্বেগের জায়গা হলো সৌদি আরব-পাকিস্তান সম্পর্ক। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র ঘোষিত মুসলিম পারমাণবিক শক্তি। সম্প্রতি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে নেতানিয়াহুর।
২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে রিয়াদ-ইসলামাবাদ। চুক্তির মূল শর্ত হলো- যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এর আতওতায় উভয় দেশই যেকোনো ধরনের বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবিলায় একে অপরের পাশে দাঁড়াতে এবং যৌথভাবে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া চুক্তিটি কৌশলগতভাবে সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আওতায় নিয়ে এসেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফও এমনটি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে পাকিস্তান সৌদি সুরক্ষায় তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারে।’ এই দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ইরান-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর যদি পাকিস্তানও সেই সমীকরণের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে অঞ্চলজুড়ে নতুন ধরনের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি কাঠামো মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সংঘাতের রাজনীতির বিপরীতমুখী।
পাকিস্তানের পারমাণবিক ইস্যু ও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব
পাকিস্তানি রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে বহুদিন ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানকে দুর্বল করতে ভারত ও ইসরায়েলের কৌশলগত সহযোগিতা রয়েছে। কাশ্মীর ইস্যু থেকে শুরু করে সামরিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি- সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানের উদ্বেগের বিষয়।
পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় চলে আসে ইসলামাবাদ। বিভিন্ন গবেষণা, গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের কাহুতা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা প্রসঙ্গ।
সেই সময় ইরাকের ওসিরাক পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের সফল হামলার পর পাকিস্তানেও অনুরূপ অভিযানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি, কিন্তু পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা শুরু থেকেই ইসরায়েলের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল।
১৯৯৮ সালে পাকিস্তান যখন পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তখন সেটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যই বদলায়নি; মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছিল। সেই সময় ইসলামাবাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং নানা ধরনের তৎপরতাও ছিল। আজ প্রায় তিন দশক পরে আবারও পাকিস্তান একটি আঞ্চলিক সংকটের কেন্দ্রে। তবে এবার পারমাণবিক পরীক্ষা নয়, বরং যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগের কারণে।
পাকিস্তানকে থামাতে সর্বশেষ ষড়যন্ত
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। ব্রাজিলের সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই বৈঠকের সময় আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে একটি গোপন হত্যাচেষ্টা পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা নাকি এ চক্রান্তের তথ্য আগেভাগেই শনাক্ত করে তা নস্যাৎ করে দেয়। এসকোবার আরও দাবি করেন, এই কথিত পরিকল্পনার পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত ছিল। ঘটনার পর পাকিস্তান নাকি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, তাদের প্রতিনিধিদলের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তার চরম জবাব দেয়া হবে।
এই অভিযোগের পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যদিও বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদ স্পষ্টভাবে এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান সরকারিভাবে এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিলেও বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলমান রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের দাবি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সেতুবন্ধন পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তান এমন একটি অবস্থান নিয়েছে, যেখানে তারা ওয়াশিংটন, রিয়াদ, দোহা এবং তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের সেতুতে পরিণত হয়েছে। আর সেটিই সম্ভবত ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ।
ফলে ইরানকে বিচ্ছিন্ন রাখা, মুসলিম বিশ্বের সম্ভাব্য শক্তিগুলোকে পৃথক রাখা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে জীবিত রাখার যে কৌশল বহু বছর ধরে লালন করেছে তেল আবিব, পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকায় সেই সমীকরণে ফাটল দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক টেবিলেই যে শান্তির পথ সৃষ্টি হয়- এমন ধারণাকেই যেন বাস্তব রূপ দিচ্ছে ইসলামাবাদ।






