সিরাজগঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালে (পূর্ব নাম শহীদ এম. মনসুর আলী হাসপাতাল) রোগীদের খাবার সরবরাহে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় কম খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের তথ্য গোপনের চেষ্টায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালহা এন্টার প্রাইজকে পরিবর্তন করে নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হোক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) শিয়ালকোলে অবস্থিত ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ মেডিকেল হাসপাতালের অস্থায়ী রান্নাঘরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাছির উপদ্রব, দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যেই রোগীদের জন্য খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। হাসপাতালের স্থায়ী রান্নাঘরে গ্যাস সংযোগ না থাকায় অস্থায়ীভাবে রান্নার ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন কোনো চিত্র চোখে পড়েনি।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ওইদিন ১ নম্বর গ্রেডের ৪৭৫ জন রোগীর জন্য দুপুর ও রাতের খাবার প্রস্তুতের কথা থাকলেও রান্নাঘরে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণ নির্ধারিত চাহিদার তুলনায় কম রয়েছে। চাল, জিরা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, হলুদ, এলাচসহ বিভিন্ন উপকরণে ঘাটতি দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিদিন দুই বেলা এভাবে কম উপকরণ ব্যবহার করায় খাবারের স্বাদ ও মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া রান্নাঘরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। মাছির উপদ্রবের মধ্যেই খাবার প্রস্তুত করতে দেখা গেছে কর্মীদের। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে জানতে ও ছবি তুলতে গেলে আক্রমণাত্মক আচরণ করে বাধা দেন হাসপাতালের কিচেন রুমের স্টুয়াড মো. মাসুদ রানা ও কর্মরত স্টাফরা। কিচেন রুমের স্টুয়াড মাসুদ রানা বলেন, পরিচালক নিষেধ করেছে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে। সে যদি অনুমতি দেন, তাহলে আমি সব তথ্য দেবো। আপনারা এখান থেকে চলে যান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের স্থায়ী কিচেন রুমে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অস্থায়ীভাবে কিচেন রুমে রান্না হচ্ছে৷ বর্ষা বাদলের কারণে সমস্যা হয়। রোগীর খাবারে একটি স্কেল আছে, আমাদের লোক দেখে। স্কেল অনুযায়ী ওনারা খাবার দেন। তিনবেলা জনপ্রতি ১৭৫ টাকা বরাদ্দ, সেভাবেই দেওয়া হয়।
তবে সরেজমিনে দেখা যাওয়া চিত্র এবং রোগীদের খাবার প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর হাসপাতালের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগী ও স্বজনরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই রোগীদের স্বার্থে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালহা এন্টারপ্রাইজকে বদলে নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বার্তা বাজার/এস এইচ






