নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর কক্সবাজারের টেকনাফে শুরু হয়েছে মাদক কারবারীদের নতুন বসন্ত। মাদক সম্রাজ্য নিরাপদ রাখতে রাজনীতিতে ঝুঁকছে চিহ্নিত মাদক কারবারীরা। মাদকের কালো টাকায় বাগিয়ে নিচ্ছে একেরপর এক দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ। অভিযোগ উঠেছে এবারে পরিবারের মাদক সম্রাজ্য নির্ভিগ্ন করতে ছাত্রদলের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনের উপজেলা সভাপতি হতে মোটা টাকার মিশনে নেমেছেন আবু হুরাইরা শামীম উরুফে শামীম চাকলাদার নামের এক যুবক। বিষয়টি নিয়ে একদিকে সংগঠনের ত্যাগী নেতা কর্মীদের মাঝে বাড়ছে ক্ষোভ, অপদিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে একের পর এক মাদক কারবারীরের হাতে চলে যাওয়ায় দায়িত্বশীলদের নিয়ে বেড়েছে সমালোচনা।
পুলিশে দেওয়া তথ্য বলছে, উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে আবু হুরাইরা শামীম। ২০১৮ সালে পুলিশি অভিযানে রঙ্গীখালী মাদকের ডেরা থেকে আটক হওয়া আসামীদের মাদকসহ ছিনিয়ে নিতে মাদক কারবারীদের সাথে মিলে পুলিশের উপর হামলা চালায় শামীম। ওই ঘটনায় শামীমের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। (টেকনাফ থানা মামলা নং- ৭৩/২০১৮ ইং)।
পুলিশ আরো জানায়, শামীমের বড় ভাই আবু তালহা ফাহিম একজন চিহ্নিত শীর্ষ ইয়াবা কারবারী। তার নামে কক্সবাজার সদর থানা ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায় দুইটি মামলা রয়েছে। দুই মামলার তাকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। (কক্সবাজার সদর থানা এফআইআর নাম্বার-১৫/১৯৮ ও লোহাগাড়া থানা এফআইআর নাম্বার- ৪৮/২৯০)।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ব্যক্তিগত জীবনে শামীম এক সন্তানের জনক। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও তার চলাফেরায় রাজকীয় ভাব। তার ভাই আবু তালহার মাদক সম্রাজ্যে সে শামীম চাকলাদার নামে বেশ পরিচিত।
তবে বিয়ের বিষয়টিতে যাচাই করতে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যা পাওয়া গেছে।
সংগঠনটির নেতা কর্মীদের অভিযোগ, টেকনাফ উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি হতে মরিয়া শামীম কক্সবাজার জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা ও টেকনাফ উপজেলার শীর্ষ তিন নেতা ও জেলা ছাত্র দলের সভাপতি ফাহিমকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে রেখেছেন। এছাড়াও কিছু দলীয় কর্মীদের অনুগত করে রাখতে কক্সবাজার শহরের ‘প্রিন্স অফ কক্স’ ক্লাবের পাশে ব্যাচেলর বাসা ভাড়া নিয়ে রেখেছেন। যেখানে তার অনুসারী অনেকেই বিনা খরচে থাকেন। এসব অর্থের যোগান আসে তার ভাই মাদক কারবারী আবু তালহার কাছ থেকে।
তারা আরো বলেন, গেলো সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে তার ভাই আবু তালহা শামীমের মাধ্যমে বেশ কিছু অর্থ ব্যয় করেছেন। এতেই দলের স্থানীয় নেতাদের নজড়ে আসেন। এছাড়াও সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার সফরকালে ব্যানার ও পনিবহন বাবদ প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা ছাড়া সামান্য বেতনের একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের সন্তান হয়ে তার বিলাসী চলাফেরার অর্থের যোগান কোন পথে আসে একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলী খালী ও রঙ্গীখালী কেন্দ্রীক আবু তালহার কয়েকটি ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, পারিবারিক ইয়াবা সম্রাজ্যকে নিরাপদ ও নির্ভিগ্ন করতে শামীম কে রাজনীতিতে প্রতিষ্টা করতে তারা মোটা অংকের মিশনে নেমেছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম জানান, মাদকের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটিতে না রাখার কঠোর নির্দেশ রয়েছে। সে যতোই যোগ্য বা ত্যাগী হোক, যদি কারো বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিটি হওয়ার পরেও কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নজির রয়েছে। আমরা ছাত্রদলকে মাদকের কালিমা মুক্ত রাখতে চাই।
এসব বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমানের মুটোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে আবু হুরায়রা শামীম উরুফে শামীম চাকলাদার জানান, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। একটি পক্ষ আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যদি আমার বিরুদ্ধে নিউজ হয় সেই নিউজ নিয়ে আমি তারেক রহমানের কাছে যাবো।
এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী বিএনপির সমর্থকরা বলেন- আওয়ামীলীগের পতনের পর টেকনাফ উপজেলায় চিহ্নিত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত কিছু ব্যক্তি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছে। তাদের উদ্দেশ্য রাজনীতি নয়, শুধু মাদক সম্রাজ্যে আধিপত্য বিস্তার করা। এসব চিহ্নিত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টা খুবই উদ্বেগজনক। এই সংস্কৃতি পরিহার না করলে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






