ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন চেষ্টার শিকার হয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত তিন যুবক ওই স্থান থেকে উধাও হয়ে গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে তাদের আর সীমান্তের শূন্যরেখায় দেখা যায়নি। গত ১৭ দিন ধরে তার বিএসএফ ও বিজিবির নজরদারির মধ্যে শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।
তবে ওই তিন যুবক কখন কোথায় কীভাবে চলে গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বিজিবি কিংবা স্থানীয় লোকজন সুস্পষ্ট কোনও মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করা তিন যুবক নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করেছিলেন। দাবি অনুযায়ী তারা হলেন- ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২), সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬) এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১)। তবে বিজিবি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রৌমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও ওই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘বুধবার সকালে ভুন্দুরচর সীমান্তে থাকা তিন যুবককে দেখতে গিয়ে সেখানে কাউকে পাইনি। ওই জায়গাটি এখন ফাঁকা রয়েছে। বিএসএফকেও সেখানে দেখা যায়নি।’
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ ভোর থেকে তাদেরকে আর দেখতে পাচ্ছি না।’
এর আগে গত ১৪ জুন ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ছয় জন এবং ইজলামারী সীমান্তপথে তিন যুবককে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি এবং স্থানীয় লোকজনের বাধায় তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ।
এর মধ্যে মা ও শিশুর জীবন সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ১৮ জুন ভোরে দুই শিশুসহ দম্পতিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গত ২৩ জুন একই সীমান্তের দুই যুবককেও সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবক বিজিবি ও বিএসএফের প্রহরায় ১৭ দিন ধরে অবস্থান করছিলেন। বুধবার সকাল থেকে সীমান্তের ওই স্থানে তাদের আর দেখা যায়নি। তারা কোথায় চলে গেছেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।






