ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এ বছর লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো লটকন। কৃষি বিভাগের আশা, চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার লটকন বিক্রি হবে।
জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়ি এলাকার লাল মাটির ছায়াযুক্ত জমিতে লটকনের দারুণ ফলন হয়েছে। বিশেষ করে চম্পকনগর, মেরাসানি, সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর এলাকায় লটকনের চাষ বিস্তৃত হয়েছে। এসব এলাকায় কাঁঠাল, লিচু, চায়না কমলা ও মাল্টার পাশাপাশি এখন লটকনও লাভজনক ফল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাগান থেকে লটকন সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।
চাষিরা জানান, টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো এই ফলের বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব লটকন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি ভৈরব, কুমিল্লা ও হবিগঞ্জ জেলার বাজারেও সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন বাগান মালিকরা।
লটকন চাষি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে থেকেই লিচু, কাঁঠাল, মাল্টা ও আমের চাষ হতো। প্রায় সাত-আট বছর আগে ময়মনসিংহ থেকে লটকনের চারা এনে বাগান করি। শুরুতে অনেকেই হাসাহাসি করেছিলেন। গত দুই বছর কিছু গাছে ফল এলেও এ বছর প্রায় সব গাছেই প্রচুর লটকন ধরেছে। এবার লক্ষাধিক টাকার লটকন বিক্রির আশা করছি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি সহায়তা পেলে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে লটকনের চাষ করতে পারব।”
সিঙ্গারবিল গ্রামের কৃষক আক্তার মিয়া বলেন, “এ বছর লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাইকাররা বাগান থেকেই ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে লটকন কিনে নিচ্ছেন। পাশাপাশি লটকন গাছের নিচে আদার চাষ করেও অতিরিক্ত আয় হচ্ছে।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন খান বলেন, “বিজয়নগরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এ অঞ্চলের লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে উপজেলার কয়েকজন উদ্যোক্তা প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ করছেন।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার লটকন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। উপজেলা কৃষি অফিস চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”






