ঢাকা   রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

দখলদারদের বাধার মুখে খাল না কেটে ফিরে এলেন এমপি-ডিসি

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ এএম

দখলদারদের বাধার মুখে খাল না কেটে ফিরে এলেন এমপি-ডিসি

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সরকারি দেলভাষানি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে দখলদারদের বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করেছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে খালটি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসা ব্যক্তিদের আবেদনের পর মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের গোমতি এলাকায় দেলভাষানি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোসা. আতিয়া খাতুন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা উপস্থিত হন।

কিন্তু উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর আগেই সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন দখলদার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে খাল না কাটার অনুরোধ জানান। পরে ঘটনাস্থলে সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন পৌঁছালে তাদের কাছেও একই দাবি জানানো হয়।

দখলদারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি খাল আটকে মাছ চাষে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন খাল কেটে দিলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত খাল দখলমুক্ত করার দাবি জানান।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে দখলদারদের ১৫ দিনের সময় দেয়। এ সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর দাবি, তিনি খাল দখল করেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন খালটি ভোগদখল করছে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসনের তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় জেলার প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর উদ্দেশ্য কৃষকদের জন্য সেচের পানি নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক জলসম্পদ সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা।
তিনি আরো বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৌশলগত কারণে দেলভাষানি খালের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাট-২ সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি খালে মাছ চাষকারীরা অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের আবেদনের পর মানবিক ও কৌশলগত দিক বিবেচনায় মাছ তুলে নেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে আইন অনুযায়ী খাল সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, বাগেরহাট জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ছোট-বড় কয়েকশ সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। এতে পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, কৃষি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন