ঢাকা   সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বাবাকে জিম্মি করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ, উদ্ধার চেয়ে মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

বাবাকে জিম্মি করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ, উদ্ধার চেয়ে মেয়ের সংবাদ সম্মেলন

ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থ বৃদ্ধ নুরুল ইসলামকে স্বজনদের ‘জিম্মিদশা’ থেকে উদ্ধার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁর একমাত্র মেয়ে নাজমিন আক্তার লিজা। তবে তাঁর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত চাচাতো ভাই আপেল মিয়া।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টায় ভালুকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাজমিন আক্তার লিজা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা মো. নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। এরপর চাচা শামছুদ্দিন, চাচাতো ভাই আপেল ও আপেলের স্ত্রী নিপু কৌশলে তাঁর বাবাকে একাধিক মাছের ফিশারি ও মুরগির খামারে এক কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করেন। পরে ওই বিনিয়োগের হিসাব চাইলে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে তিনি স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা তাঁর জমিজমা, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিজেদের দখলে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লিজা বলেন, বাবাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে গেলে অভিযুক্তরা বাধা দেন। গত ১৮ মার্চ ও ১৪ এপ্রিল বাবাকে দেখতে গেলে তাঁকেও একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর দাবি, বর্তমানে নুরুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে নুরুল ইসলামের টিপসই নিয়ে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির পাঁয়তারা চলছে বলেও দাবি করেন।

লিজা আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার অভিযোগ দেওয়ার পরও ভালুকা মডেল থানা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে গত জুন মাসের ৩০ তারিখে আদালতের মাধ্যমে সার্চ ওয়ারেন্ট নেওয়া হলেও তাঁর বাবাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেও নুরুল ইসলামকে উদ্ধার না করেই ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বাবাকে দ্রুত উদ্ধার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আপেল মিয়া। তিনি বলেন, নুরুল ইসলামকে আটকে রাখার কোনো প্রশ্নই আসে না। গত ১১ মাস ধরে তাঁরাই তাঁর চিকিৎসার সব দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ের মধ্যে লিজা একদিনের জন্যও বাবার খোঁজ নেননি।

আপেল মিয়ার দাবি, প্রায় সাত মাস আগে লিজার স্বামী তাঁর কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নুরুল ইসলামের জমিজমা লিজার নামে রেজিস্ট্রি করে দিলে তাঁকেও কিছু সম্পত্তি দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান বিরোধের মূল কারণ সম্পত্তি।

তিনি আরও বলেন, তাঁরা নুরুল ইসলামের কোনো সম্পত্তি নিজেদের নামে নেননি বা বিক্রিও করেননি। চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে নুরুল ইসলামের কিছু সম্পত্তি লিজ দিয়ে সেই অর্থ চিকিৎসায় ব্যয় করা হচ্ছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন