ভারত থেকে চাল আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ধান-চালের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ধানের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে ধানের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তবে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ ধরনের প্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে কৃষকেরা সেই দামের কাছাকাছিও পাচ্ছেন না। বিভিন্ন এলাকায় প্রতি মণ ধান ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিজয়নগর উপজেলার কৃষক রফিক মিয়া বলেন, উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কিন্তু ধানের ন্যায্যমূল্য মিলছে না। সরকার অ্যাপের মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করায় অধিকাংশ কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।
নাসিরনগরের কৃষক সোহাগ মিয়া বলেন, ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছেন। শ্রমিক, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু বাজারে ধানের দাম সেই অনুপাতে নেই। আবার সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগও সব কৃষক পান না।
বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকার ভারত থেকে প্রায় দেড় লাখ টন চাল আমদানি করবে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক চালকল মালিক ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে আশুগঞ্জ মোকামে। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান নিয়ে আসা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্রেতার অভাবে বিপাকে পড়ছেন।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে ধান নিয়ে আসা ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ টাকা দরে ধান কিনেছিলেন। এখন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। নৌকায় ধান নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করায় পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়সহ অতিরিক্ত খরচও বাড়ছে।
অষ্টগ্রামের ব্যবসায়ী মিলন চন্দ্র দাস বলেন, টানা তিন দিন ধরে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
চালকল মালিকরা জানান , বাজারে চালের চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানির গুঞ্জনের কারণে ব্যবসায়ীরাও নতুন করে চাল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে পুরো বাজারে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নূর আলী বলেন, এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানির খবর সঠিক নয়। এটি সম্পূর্ণ গুজব। সরকার এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ১১ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন ধান, ৪ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৬৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






