বিশ্বকাপের মঞ্চে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও যখন ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন হতাশা আর ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যদি হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আর হারটি যদি আসে শেষ ষোলোর মতো ম্যাচে। মিশরের কোচ হোসাম হাসানের ক্ষেত্রেও যেন ঘটেছে ঠিক সেটিই। তবে আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় এবার তাকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ভর করে ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ১১ মিনিট আগেও ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় ঘণ্টা যেন তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো অবিশ্বাস্য গল্প লিখে। আটলান্টার সেই রাতে মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। নিশ্চিত বিদায়ের মুখ থেকে ফিরে এসে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার পাশাপাশি বিতর্কও কম ছিল না। আর্জেন্টিনার শেষ মুহূর্তের আক্রমণের সময় মিশরের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন ম্যাচ রেফারি। সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরীয় ফুটবলাররা। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে হলুদ কার্ড দেখেন হোসাম হাসান। পাশাপাশি গ্যালারির দিকে তার কিছু অঙ্গভঙ্গিও সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর।
ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন মিশর কোচ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি গ্যালারির দিকে থুতু ছিটান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, কারও দিকে থুতু ছিটানো শারীরিক আক্রমণের পর্যায়ে পড়ে। একই ধরনের অপরাধের মধ্যে আঘাত, লাথি, কামড় বা ঘুষিও অন্তর্ভুক্ত। এমন অপরাধের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।
ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার হোসাম হাসান। চলতি বিশ্বকাপেও বিভিন্ন সময়ে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যে তার সামনে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ফিলিস্তিন নিয়ে তার অবস্থানের কারণে রেফারিংয়ে মিশর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। জবাবে সরাসরি সেই বিতর্কে না গিয়ে মানবিক দিকটিকেই সামনে আনেন মিশর কোচ, ‘আমি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। যে মানুষটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে কিংবা যার হাত কেটে ফেলা হয়েছে, তাদের কষ্ট কি কেউ অনুভব করে? আমরা চাই ফুটবল যেন মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।’
বার্তা বাজার/এস এইচ






