ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাক থেকে ইরানের মাশহাদ শহরে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই শহরেই তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অবসরে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে খামেনির স্মরণে সাতদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে ইরান। তবে খামেনির শোকযাত্রার মধ্যেই গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব দিতেই এ অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে এতেও খামেনির শোকযাত্রা থামেনি। ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ বিশাল শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতেই খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ শহরে নেয়া হয়।
সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা কফিন গ্রহণ করেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ শহরে শোকযাত্রা হয়।
নাজাফের কর্মসূচি শেষে খামেনির লাশ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে ইমাস হোসেইনের মাজারে এবং আল-আব্বাসের মাজারে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোকযাত্রার মধ্যেই বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ইরানে ফের হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হামলা করে ইরানও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে ইরানে নেয়া হয় খামেনির লাশ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ বহনকারী বিমান আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের আগে মাশহাদের শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। এবার ইমাম রেজার মাজারে নিয়ে যাওয়া হবে খামেনির মরদেহ, সেখানে শেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন খামেনি।
বার্তা বাজার/ এস এইচ






