ঢাকা   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সবার আগে সাতটি কাজ করুন বাড়িতে পানি ঢুকলেই

Authorনিউজ রুম

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

সবার আগে সাতটি কাজ করুন বাড়িতে পানি ঢুকলেই

সবার আগে সাতটি কাজ করুন বাড়িতে পানি ঢুকলেই

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বাড়িঘর। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কে কী করবেন, আর কী করবেন না, তা বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ শুরুতেই নেওয়া কয়েকটি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রাণহানি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগ এবং আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করলে সবার আগে নিচের সাতটি কাজ করা উচিত।

১. নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন

ঘরের আসবাব, টেলিভিশন বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস বাঁচানোর চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে বা স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে দেরি না করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের আগে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

২. নিরাপদ হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া। যদি নিরাপদভাবে মূল সুইচে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন। তবে পানিতে দাঁড়িয়ে বা ভেজা অবস্থায় কখনোই সুইচ স্পর্শ করবেন না। একইভাবে গ্যাসের সংযোগও বন্ধ করে দিন। যদি সুইচ পানির নিচে চলে যায়, তাহলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তা নিন।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওষুধ নিরাপদ স্থানে রাখুন

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাসনদ, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, জমির দলিল, নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল ফোন, চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক জলরোধী ব্যাগে ভরে উঁচু স্থানে রাখুন। সম্ভব হলে এসব কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি আগে থেকেই ক্লাউড বা ই-মেইলে সংরক্ষণ করে রাখুন।

৪. বন্যার পানিকে নিরাপদ ভাববেন না

বন্যার পানিতে নর্দমার ময়লা, জীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ, ধারালো বস্তু কিংবা সাপসহ বিভিন্ন প্রাণী থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে পানিতে নামবেন না। নামতে হলে বুট বা শক্ত জুতা ব্যবহার করুন। শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে তা ঢেকে রাখুন।

৫. নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় পানিবাহিত রোগ। তাই বোতলজাত বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি পান করুন। বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাবেন না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবারও পরিহার করুন। প্রয়োজনে ওআরএস, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকেই আলাদা করে রাখুন।

৬. জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন

প্রতিটি পরিবারের একটি জরুরি ব্যাগ থাকা উচিত।

এই ব্যাগে রাখতে পারেন—

প্রয়োজনীয় ওষুধ

টর্চলাইট

অতিরিক্ত ব্যাটারি

মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক

শুকনো খাবার

বিশুদ্ধ পানি

প্রয়োজনীয় পোশাক

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র

নগদ টাকা

বাঁশি বা জরুরি সংকেত দেওয়ার উপকরণ

হঠাৎ বাড়ি ছাড়তে হলে এই ব্যাগই সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে।

৭. পানি নেমে গেলেও তাড়াহুড়া করে ঘরে ফিরবেন না

পানি কমে গেলেই ঘর নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘরে ঢোকার আগে দেয়াল, মেঝে, বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাসলাইন এবং ভবনের অবস্থা পরীক্ষা করুন। জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজন হলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ঘর পরিষ্কার করুন। কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ভিজে গেলে তা শুকানোর আগে চালু করবেন না।

মনে রাখুন

বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের সবাইকে আগে থেকেই জরুরি পরিকল্পনা জানিয়ে রাখুন। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকি নেবেন না। দুর্যোগের সময় সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিডিসি ও আমেরিকান রেড ক্রস

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন