সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদ নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ জুলাই (রোববার) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় শিশুটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর ও তার পরিবারের বক্তব্য এবং ছবি নিতে গেলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফরা সাংবাদিকদের বাধা দেন এবং হাসপাতালের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন শিশুটির মা মোছাঃ এস্নোয়ারা খাতুন। এজাহারে কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোঃ হাবিবুল্লাহর ছেলে আহসান উল্লাহকে (১৬) একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিবেশী কিশোর আহসান উল্লাহ প্রায়ই তাকে বিভিন্ন জিনিসের লোভ দেখাত। গত ১২ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে খেলা করতে বের হয়। এ সময় আহসান উল্লাহ তাকে লোভ দেখিয়ে হাত ধরে প্রায় ১০০ গজ দূরে জনৈক রফিকুলের একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ফলে শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে এবং সে কান্নাকাটি করতে থাকলে আসামি তাকে নিচে নামিয়ে টিউবওয়েলে মুখ ধোয়ানোর চেষ্টা করে।
এ সময় শিশুটির চাচী রাবেয়া খাতুন ঘটনাটি দেখে ফেলেন। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে বিস্তারিত বললে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।
বাদী এজাহারে আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে আসামির বাবা মোঃ হাবিবুল্লাহ ও মা আসমা খাতুন মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছেন। চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকার কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির পরিবারের খোঁজ নিতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীরা নজিরবিহীন বাধার সম্মুখীন হন। কর্তব্যরত নার্স ও কর্মচারীরা সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা জানান, হাসপাতালের পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভিকটিম বা তার পরিবারের সাথে কথা বলা যাবে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার কুদরতি খোদার কক্ষে যাওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সহকারী পরিচালক ডাক্তার অজয় কুমার সাহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সাংবাদিকদের সহযোগিতা না করে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘স্বদেশ’। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, গতকাল ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা পরিবারটির খোঁজখবর রাখছি। শিশুটির পরিবারকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সকল আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। আমরা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






