উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার। এ পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল রায় জানান, তিস্তার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চরবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা সড়কে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ সংস্কার না হওয়ায় পানি বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না।
চর রাজপুরের বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, দুপুরের পর থেকেই তাঁর বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকলে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে।
চর বাগেরহাটের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ বাড়ায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশের চারটি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া নদীতে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






