কেউ জানত না তাঁর নাম, নেই কোনো পরিচয়। অসুস্থ শরীর নিয়ে কয়েক দিন ধরে কক্সবাজারের উখিয়ার কোর্টবাজার স্টেশন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এক বৃদ্ধা। পায়ে গুরুতর ক্ষত, শারীরিক অসুস্থতা আর মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে নিজের যত্ন নেওয়ার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। ব্যস্ত স্টেশনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাঁকে দেখলেও সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি কেউ।
শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ান উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। পরিচয়হীন এই নারীর অসহায়ত্ব দেখে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তাঁর উদ্যোগে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জুলাইয়ের শুরুতে কয়েক দিন ধরে কোর্টবাজার এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন ওই বৃদ্ধা। বিষয়টি ইউএনও পান্না আক্তারের নজরে এলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন।
পরে ৭ জুলাই রাতে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, হাসপাতালে আনার সময় বৃদ্ধার পায়ের ক্ষত ছিল গুরুতর। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিবিড় পরিচর্যা ও আন্তরিকতায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। নিয়মিত ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বৃদ্ধার বাড়তি যত্ন প্রয়োজন হচ্ছে। হাসপাতালের ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদারসহ অন্যান্য কর্মীরা দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাঁর নিয়মিত পরিচর্যা করছেন।
ইউএনও পান্না আক্তার শুধু উদ্ধারের ব্যবস্থাই করেননি, চিকিৎসার পুরো সময় নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।
পান্না আক্তার বলেন, “অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্বেরই অংশ। পরিচয়হীন বা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে কোনো মানুষ চিকিৎসা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। একজন মানুষের জীবন ও মর্যাদা সবার আগে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদার বলেন, “মানুষের সেবায় কাজ করাই আমাদের দায়িত্ব। পরিচয়হীন এই রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
একজন পরিচয়হীন বৃদ্ধার জন্য প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকার একটি আশাও।






