চট্টগ্রামে এককালীন ২ কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মতে, দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করতে না পারা সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।
বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া এবং পূর্বঘোষণা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করার যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনো রাষ্ট্রে হওয়া সম্ভব না। যে রাষ্ট্রে সরকার আছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে, একটি প্রশাসন আছে সেখানে যুদ্ধাবস্থাতেও এটা হওয়া সম্ভব না।’ এই ঘটনার মাধ্যমে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুকতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ থমকে থাকার পেছনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও নিরাপত্তার অভাব অন্যতম প্রধান কারণ বলে দাবি করেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান করতে পারেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে গাজী আতাউর বলেন, ‘সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। অথচ একজন আইনমন্ত্রী আছেন। আমরা বলি, যদি সালাহউদ্দিন আহমেদকে আইন ব্যাখ্যায় বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে তাঁকেই আইনমন্ত্রী করুন। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ও নিবেদিত কাউকে বসান।’ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রাষ্ট্রকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপিত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, ‘বিপুল ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পরেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে যদি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে বা বাহিনীকে সক্রিয় করতে না পারে তাহলে তা সরকারের সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।’ তিনি সরকারের প্রতি চট্টগ্রামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বার্তা বাজার/এস এইচ






