২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিনশ আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের নতুন তালিকা উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই তালিকা জমা দেন রাকসু ও হল সংসদের নেতারা। এ সময় তারা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সমাজের (মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ) ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে উপেক্ষামূলক ও কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করে। আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর পরিবর্তে কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রশাসনিক ব্যক্তি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে আন্দোলনকে বিরূপভাবে ব্যাখ্যা করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হুমকি, চাপ প্রয়োগ কিংবা অপপ্রচারের আশ্রয় নেওয়া হয়, যা শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের পরিপন্থি। এই ধরনের নেতিবাচক অবস্থান শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে।
তালিকা হস্তান্তর শেষে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমরা এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দ্বিধায় ঘুরতে দেখছি। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই বিপ্লববিরোধী অপপ্রচার ও ন্যারেটিভ তৈরি করছেন, যা আমাদের জন্য কষ্টকর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা তাদের ধরে অপরাধী হিসেবে থানায় সোপর্দ করব।
কিসের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে জানতে চাইলে জিএস আম্মার বলেন, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য, তাদের অনলাইন এক্টিভিটি এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মাঠে অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী শিক্ষকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এসএম সালমান সাব্বির বলেন, ৫ আগস্টের পর প্রশাসনের কাছে আমরা একাধিকবার জুলাইবিরোধী শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এতদিনেও তাদের বিচার হয়নি। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই আইনি প্রক্রিয়াকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গতিশীল করতে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে, এই বিচার কার্যক্রম ঠিক কত দিনের মধ্যে শেষ করা হবে তার একটি সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত সময়সূচি খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে প্রকাশ করা হবে।
ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক পোস্টারিংয়ের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করেছি। এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালিকা হস্তান্তরের সময় রাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






