৪২ দিনের মধ্যে স্বর্ণের দামে বড় পতন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাবে গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের সবচেয়ে বড় দরপতনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯৮৮ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যদিও সেশনের শুরুতে এটি ১ জুলাইয়ের পর থেকে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, আগস্টে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৯৯২ ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত এই মূল্যবান ধাতুর দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, যা গত ১ জুনের পর সবচেয়ে বড় পতন। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত জুনের মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী তথ্য স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সিপিআই ও পিপিআই-এর মতো মূল্যস্ফীতির সূচকগুলো কিছুটা শিথিল হলেও চলতি সপ্তাহে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি কমার সেই স্বস্তি উদযাপন করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো প্রকট। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং ইল্ড (মুনাফা) নিয়ে উদ্বেগই এখন স্বর্ণের দামকে আটকে রাখার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক মাস আগের যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যাপক হামলা-পালটা হামলা ও গোলাগুলি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চলতি সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যেই লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানির পথ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হাউছিদের প্রস্তুত থাকতে বলেছে তেহরান।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে, যা সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বেশি মুনাফা দেয় এমন সম্পদের দিকেই ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন বা মুনাফাবিহীন সম্পদের কদর কমে যায়।
ডালাস ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট লোরি লোগান, ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ-এর নতুন সহকর্মীদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ্যে সুদের হার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফেডের ভাইস চেয়ারম্যান ফিলিপ জেফারসনও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির শিগগিরই কোনো উন্নতি না হলে তিনি সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে থাকবেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির ৭৩ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৫ দশমিক ২২ ডলার, প্লাটিনামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬০৫ দশমিক ৬২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৪৪ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমেছে। সপ্তাহ শেষে এই তিনটি ধাতুর দামই পতনের দিকে এগোচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স






