ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ, হঠাৎ দাম কমে যত হলো
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সরবরাহ বাড়ায় মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমে কমেছে ইলিশের দাম। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
শ্রাবণের ভোর। মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরের মিরকাদিম মৎস্য আড়তজুড়ে রুপালি ইলিশের ঝিলিক। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মিরকাদিম মৎস্য আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় নানা আকারের ইলিশে ভরে উঠেছে আড়ত।
কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম কমেছে প্রায় ২০০ টাকা। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা।
এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে। ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।
দাম কিছুটা কমায় খুশি ক্রেতারা। আড়তে মাছ কিনতে আসা আব্দুল হালিম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ ইলিশের দাম কিছুটা কম। এখনও সস্তা বলা যাবে না, তবে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। সামনে যদি সরবরাহ আরও বাড়ে, তাহলে দাম আরও কমবে বলে আশা করছি।
আরেক ক্রেতা রেজাউল করিম বলেন, বর্ষাকালে ইলিশের অপেক্ষায় থাকি। কয়েকশ টাকা কমায় আজ একটা বড় মাছ কিনতে পেরেছি। তবে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হলে সরবরাহ আরও বাড়তে হবে।
আড়তদাররা বলছেন, জেলেদের জালে এখন আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে আড়তে মাছের সরবরাহও বেড়েছে। জাটকা সংরক্ষণে ৩০ জুন আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে। আগামী এক-দুই সপ্তাহে বাজারে আরও বেশি মাছ আসতে পারে।
মুন্সীগঞ্জ মিরকাদিম মৎস্য আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা নিয়মিত নদীতে নামছেন। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। আরও এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে। তবে নদী দূষণের কারণে মিঠা পানির মাছ আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না, এটাও একটা বড় সমস্যা।
ইলিশ ছাড়াও আড়তে নদী-নালা ও খাল-বিলের বিভিন্ন প্রজাতির মাছেরও বেচাকেনা হচ্ছে। আড়ত সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেচাকেনায় মিরকাদিমের এই ঐতিহ্যবাহী মাছের আড়তে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়।






