স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে যখন মাঠজুড়ে আবেগ, উত্তেজনা আর বিশৃঙ্খলা—ঠিক তখনই এক ভিন্ন দৃশ্য নজর কাড়ে সবার। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যেও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে দেখা যায় মাঠেই নীরবে হাঁটু গেড়ে দুহাত তুলে মোনাজাত করতে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পরপরই আবেগের বিস্ফোরণে দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় জড়িয়ে পড়েন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্পেনের এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। আর সেই ঘটনার মাত্র কয়েক গজ দূরেই হাঁটু গেড়ে মোনাজাতে মগ্ন ইয়ামাল।
ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কারণ চারদিকে বিশৃঙ্খলার মধ্যেও ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের শান্ত ও সংযত আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ে।
মোনাজাত শেষে ইয়ামালের আরেকটি মুহূর্তও ব্যাপক আলোচনায় আসে। উদযাপনের ভিড় থেকে বেরিয়ে তিনি এগিয়ে যান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে। দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। সেই ছবি ও ভিডিওও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই এটিকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে ফুটবলের উত্তরাধিকার হস্তান্তরের প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
ইয়ামাল
মেসির সঙ্গে ইয়ামাল
এই আলিঙ্গনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি আবেগঘন স্মৃতি। ২০০৮ সালে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন তরুণ মেসি। প্রায় দুই দশক পর বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে দুজনের আলিঙ্গন সেই ছবিটিকেই যেন নতুন করে জীবন্ত করে তোলে। ম্যাচের আগে মেসিও এই ঘটনাকে ‘অবিশ্বাস্য কাকতালীয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিশ্বকাপ চলাকালেও ফিফা সেই বিখ্যাত ছবির গল্প নতুন করে তুলে ধরেছিল।
শিরোপা জয়ের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আবেগঘন মুহূর্ত কাটান ইয়ামাল। বিশেষ করে তার ছোট ভাই কেইনকে জড়িয়ে ধরা ছবিগুলো সমর্থকদের মন ছুঁয়ে যায়।






