ইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় চার মাস পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামসহ ১৭ নাবিক দেশে ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে রওনা হয় তাদের বহনকারী উড়োজাহাজটি।
নাবিকেরা বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ করলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।
ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম…দেশবাসী যারা দোয়া করেছেন, মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন, প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন, সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছিল এবং পাশে জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তারা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ক্যাপ্টেন শফিকুল বলেন, এক রাতে তাদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে তেলের একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা ছয়টি টাগবোট দিয়েও নেভানো যায়নি। তিনি জানান, ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে তার আগুন তাদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।
এর আগে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সংঘাত শুরু হলে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পারস্য উপসাগরেই আটকা পড়ে জাহাজটি। ১১৫ দিন পর ইরানি বাহিনীর অনুমতি পেয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে জাহাজটি।






