সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে কান দিয়ে এবার সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় জমিয়েছেন যানবাহন চালকরা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
এতে শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই, সরবরাহ ও মজুত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের কয়েকটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনও কোনও পাম্পের লাইন সড়ক পর্যন্ত ছাড়িয়ে কয়েকশ মিটার দীর্ঘ হয়। যার ফলে আশপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।
শহরের একটি পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ডিপোতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তেলের কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু ফেসবুকে সংকটের গুজব ছড়ানোর পর হঠাৎ করে একই সময়ে শত শত গাড়ি ও বাইক একসঙ্গে চলে আসে। সবাই দ্রুত তেল নিতে চাওয়ায় এই দীর্ঘ লাইন ও সাময়িক যানজট তৈরি হয়েছে।’
শহরের এবি খান পেট্রোল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক আরিফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেসবুকে দেখলাম সব জায়গায় তেলের সংকট তৈরি হচ্ছে, সামনে হয়তো তেল পাওয়া যাবে না। তাই দ্রুত ট্যাংকি ফুল করতে এসেছিলাম। কিন্তু পাম্পে এসে কর্মকর্তা ও সরবরাহ দেখে বুঝলাম সংকট বাস্তবে নেই, পুরোটাই গুজব।’
প্রাইভেটকার চালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যদের লাইনে দাঁড়াতে দেখে আমিও কিছুটা শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলাম। তবে পাম্পের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হলাম যে সরবরাহ স্বাভাবিকই আছে।’
গুজব প্রতিরোধে ও জনমনে স্বস্তি ফেরাতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়, মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং খুলনা প্রধান ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহে বিন্দুমাত্র কোনও ঘাটতি নেই। জেলাজুড়ে নিয়ম মেনেই চালকদের কাছে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কোনও ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত না করার এবং যেকোনো তথ্যের সত্যতা সরকারি বা বিশ্বস্ত উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, ‘খুলনা ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। পাম্পগুলোতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই সাধারণ জনগণকে কোনও প্রকার গুজবে কান না দিয়ে বা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে।’






