চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাজনৈতিক মতামত ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মারধর, ছুরিকাঘাতের চেষ্টা, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন মোহাম্মদ ইমাম হোসেন (৩২)।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৯ ও ১০ জুলাই ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন ইমাম হোসেন। পরে ১৭ জুলাই ‘ফটিকছড়ি জামায়াতে ইসলামী প্রচার বিভাগ নামের একটি ফেসবুক পেজে দলটির ভোট কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে একটি মন্তব্য করেন। এর জেরে আসামিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান ফটকের সামনে ইমাম হোসেনকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি ইব্রাহিম খলিল ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় দ্বিতীয় আসামি গিয়াস উদ্দীন রুবেল বাদীর পকেটে থাকা ৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। পরে তাকে জোর করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে চোখ বেঁধে অপহরণ করে ফটিকছড়ি জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরে ২১ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে মামলা করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাদী জানান, মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন।






