বিশ্বকাপ জয়োল্লাসে ভাটা, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন!
স্পোর্টস ডেস্ক : অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নামা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একপেশে ফাইনালে তারা ১-০ গোলে জেতে। এবার কিছুটা ভাটা পড়তে যাচ্ছে স্পেনের সেই জয়োল্লাসে। বিশ্বকাপে তাদের দুটি ম্যাচ সন্দেহজনক বেটিংয়ের তালিকায় রয়েছে, যা নিয়ে তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে স্প্যানিশদের।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, গ্রুপ অব কোপেনহেগেন (স্পোর্টিং ইভেন্টে সম্ভাব্য ম্যাচ পাতানো রোধ ও শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করা স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান) বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচ চিহ্নিত করেছে। যেখানে খেলার ফলাফলের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ ওঠায় ফিফার কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা। সেই তালিকায় রয়েছে স্পেনের দুটি ম্যাচ।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে উঠেছিল কেপ ভার্দে। তাদের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। তাদের ম্যাচটি নিষ্পত্তি হয় গোলশূন্য ড্র–তে। এই ম্যাচ নিয়ে পলি-মার্কেট প্ল্যাটফর্মে বাজি ধরার ব্যাপক প্রবণতা ছিল, যেখানে স্পেন কেপ ভার্দেকে হারাতে পারবে না বলে দাবি ছিল। এর বাইরে সৌদি আরবের বিপক্ষে ফেররান তোরেসের গোলটি বাতিল করার ক্ষেত্রে ভিএআরের দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এই ফরোয়ার্ডের একমাত্র গোলেই ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারায় স্পেন।
সন্দেহের তালিকায় থাকা ম্যাচগুলোকে ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা হলুদ সতর্কতার আওতাভুক্ত করা হয়। কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপের লক্ষণ, যেমন– অস্বাভাবিক গতিবিধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা তথ্যের অস্বাভাবিক আদান-প্রদান দেখলে এই সতর্কতা জারি করা হয়। এটি চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্তরগুলো হচ্ছে– সবুজ (স্বাভাবিক অবস্থা), হলুদ (সামান্য উচ্চমাত্রার সতর্কতা), কমলা (উচ্চমাত্রার সতর্কতা) এবং লাল (সর্বোচ্চ সতর্কতা)।
স্বাধীন সংস্থা গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের সাবেক সহযোগী ও বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব বলেন, সতর্কবার্তা পাওয়ার অর্থই যে কারচুপি বা জালিয়াতি হয়েছে তা কিন্তু নয়। তিনি দ্য অ্যাথলেটিককে জানান, ‘গ্রুপ অব কোপেনহেগেনের সতর্কবার্তাগুলোর পেছনে “আউটলায়ার” বা স্বাভাবিকের বাইরের কোনো কারণ থাকতে পারে। যেমন কোটা বা হেজিংয়ের তারল্যে পরিবর্তন। কারচুপি বা জালিয়াতি ছাড়াও এমন অনেক কারণ থাকতে পারে যার ফলে এমনটা ঘটে।’
এদিকে, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দিন দুয়েক পরই ফিফা জানিয়ে দেয়, তারা কোনো সন্দেহজনক বেটিং বা ম্যাচ পাতানোর বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি। এক বিবৃতিতে গ্রুপ অব কোপেনহেগেনও একই কথা জানিয়েছে, ‘কোনো ম্যাচেই সন্দেহজনক বেটিং কার্যক্রম বা ম্যাচ পাতানোর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’ তবে তাদের সন্দেহ তৈরি হওয়া ম্যাচগুলো নিয়েও আরও ব্যাখ্যা চায় ফিফার কাছে।
স্পেন ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাচ নিয়েও গ্রুপটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় থেম্বা জোয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড। বালোগুনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বাজি ধরা হয়েছিল যে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন, অথচ বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বেলজিয়াম ম্যাচে। যদিও বাজি ধরার সময় সেই শাস্তি বাতিল করা হয়নি।






