কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা আনোয়ারুল কবির টুটুলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বর্তমানে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আনোয়ারুল কবির টুটুলের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম আল হোসাইন সোহাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনোয়ারুল কবির। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো চায়নিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে দুলাল ও নুরু নামের আরও দুই ব্যক্তি আহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আনোয়ারুল কবিরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তাঁর মাথায় ১১টি সেলাই লেগেছে বলে জানা গেছে। তিনি ঘটনার বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
আনোয়ারুল কবির দাবি করেন, নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এ এইচ এম আল হোসাইন সোহাগ, চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতেও সোহাগ তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘জাসদ করে রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো যাবে না।’
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারুল কবির টুটুল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দলীয় সব ধরনের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য, যুব জোটের সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পদত্যাগের ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম আল হোসাইন সোহাগ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সম্পর্কে আমরা মামা-ভাগনে। তাঁর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয়। আমি একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কাজ কেন করব, বুঝতে পারছি না। তিনিও কেন এমন অভিযোগ করছেন, সেটিও আমার বোধগম্য নয়।”
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে সেখানে গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






