হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনেছে দলটি। বুধবার (২৯ জুলাই) মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা পদযাত্রা স্থগিত করে হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জেই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল তিনটায় হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সমাবেশে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করে লেখেন, জনাব তারেক রহমান, আমরাও দেখতে চাই আপনি আপনার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কত রক্ত ঝরাতে পারেন, কত কিশোরের চোখ উপড়ে ফেলতে পারেন, কত মানুষের জীবন নিতে পারেন। দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। একই সময়ে সারজিস আলম শহরের সোনালী ব্যাংকের একটি কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর মঙ্গলবার রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজারে নেয়া হয়। সেখানেই তারা রাতযাপন করেন। হামলার ঘটনার জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে মৌলভীবাজারের পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা স্থগিত করে হবিগঞ্জেই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি।






