কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তার কার্যালয়ে গিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তবে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল গফুর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ও উপহার তুলে দেন।
জনপ্রতিনিধি কর্তৃক একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে সংবর্ধনা জানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করছেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকদের ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) অনুযায়ী সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতা। সাধারণত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যকে অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকেন।
সনাক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য যেভাবে দলবল নিয়ে ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে সংবর্ধনা দিলেন, তাতে সরকারি কর্মকর্তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও অপ্রকাশিত চাপ তৈরির বার্তা যায়। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।’
তবে অনেকে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কাজের গতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু জানান, তিনি সম্প্রতি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবো, সেই জায়গা থেকেই এমপি স্যার নিজ থেকে এসে সৌজন্য সংবর্ধনা ও উপহার দিয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে সমন্বয় করে কাজ করা আরও সহজ হবে।’
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নিজের ফেসবুক পেজে ওই সংবর্ধনার ছবি পোস্ট করে তিনি মিরপুর উপজেলাবাসীর পক্ষে নতুন ইউএনওকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।






