ঢাকা   শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে পশ্চিমবঙ্গে আজান বন্ধে খুলে নেওয়া হচ্ছে মসজিদের মাইক

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে পশ্চিমবঙ্গে আজান বন্ধে খুলে নেওয়া হচ্ছে মসজিদের মাইক

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মসজিদের মাইক অপসারণের ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপব্যাখ্যা করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, ধর্মীয় কারণে নয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ, পর্যায়ক্রমে মসজিদে কিংবা প্রকাশ্যে আজান দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণের অজুহাতে বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

রাজ্যের বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে শব্দের মাত্রা রাখতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে এই বিধি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

এদিকে বিজেপির কয়েকজন নেতা শব্দ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘরের মধ্যেই পালন করা উচিত এবং মাইক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অপরদিকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, অন্যের অসুবিধা এড়িয়ে সবারই শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

অন্যদিকে মুসলিম নেতা ও আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথাও মাইক সম্পূর্ণ বন্ধ বা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে মাইক ব্যবহারের কথাই বলা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে মাইক ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়া পুলিশ যদি জোরপূর্বক মাইক খুলতে আসে, তাহলে ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, লিখিত নির্দেশনা ছাড়া পুলিশের এমন পদক্ষেপ সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। তিনি এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রকাশের দাবি জানান এবং কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, শব্দদূষণ মন্দির, মসজিদসহ সব ধর্মীয় স্থান থেকেই হতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। একই ধরনের মত দেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চললে পুলিশ সরাসরি গিয়ে মাইক খুলে দিতে পারে না।

এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগী তিন সংখ্যালঘু এনসিপিআই এমপি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগসংবলিত লিখিত আবেদন ও ভিডিও প্রমাণ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বার্তা বাজার/আইকে

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন