রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
রাশিয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে একক হামলায় এটিকে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। নিজনেকামস্কের মেয়র রাদমির বেলায়েভ ঘটনাটিকে গভীর বেদনার বলে উল্লেখ করেছেন। হামলার পর তাতারস্তানে শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
হামলায় ইউক্রেন সীমান্ত থেকে এক হাজার ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত নিজনেকামস্ক শহরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, শহরটির তানেকো তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ারপয়েন্ট জানিয়েছে, হামলায় তাদের তৈরি এফপি-১ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতভর শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলা চলে। এর আগে গত ১২ জুনও নিজনেকামস্কের তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই করা ছবিতে দিনের বেলায় আকাশের দিকে ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ সময় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেনের শব্দও শোনা যায়।
ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার এমন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে, যেগুলো দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে।
ইউক্রেনের বিভ্রান্তি প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই কোভালেঙ্কো বলেন, ইউক্রেন যেসব স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করছে, সেগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলা চালানো, অস্ত্র উৎপাদন এবং যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে মস্কো জানিয়েছে, হামলায় শিল্প স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি বলেছে, হামলার সময় সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এমন বেসামরিক লোকজনও সেখানে ছিলেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ইউক্রেনের ডিসইনফরমেশন প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান কোভালেঙ্কো দাবি করেন, রাশিয়ায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দায়ী। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই যুদ্ধের সময় একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত বেসামরিক স্থাপনা ও জনবসতিতে হামলার অভিযোগ করে আসছে।
মস্কোর দাবি, একই রাতে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৪৫০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও আবাসিক এলাকায় রাশিয়াও নিয়মিত বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত হামলায় ২১ জন নিহত হন। ফ্রন্টলাইনের কাছে খারকিভে রুশ গোলাবর্ষণে একই রাতে আরও পাঁচজন নিহত হন।
সূত্র : বিবিসি
বার্তা বাজার/আইকে






