ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সপ্তাহের হিসাবেও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দাম।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৩ ডলার বা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের হুমকির পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।
তবে দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদার পূর্বাভাস ও যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধির কারণে বাজারে তেলের দাম বাড়ার গতি কিছুটা সীমিত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা থমকে যাওয়ায় তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকিও দেয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সের ‘রব শ্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আরও কিছু ঘোষণা আসছে। এ বিষয়ে নজর রাখুন। কারণ ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক চাপ আমরা দিতে যাচ্ছি, যা কোনও দেশের বিরুদ্ধে এর আগে কখনোই দেয়া হয়নি।
শিলড্রপ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন এখনই আবার শুরু হবে— এমন কোনও আশা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।’
রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই হুমকি এমন সময়ে এলো, যখন ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এদিকে সপ্তাহের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মাসের গড় সংখ্যার চেয়েও নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে সমুদ্রপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী দাবি করছে।
এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে। ঘটনাটিকে ইরানের হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।
এদিকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) পূর্বাভাসে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির হার কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
জুলিয়াস বেয়ার-এর অর্থনীতি ও নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ বিভাগের প্রধান নরবার্ট রুকার বলেন, ‘এই সপ্তাহে আইইএ ও ইআইএর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তেলের মজুত আশঙ্কার তুলনায় ভালো অবস্থায় আছে। এতে তেলের দাম কমার কথা।’
বার্তা বাজার/ আইকে






