কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির দায়িত্ব পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন মহিলা লীগের নেত্রী নাজনিন নাহার নাজমা। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী ও যুবলীগ কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়ন তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় ওই মহিলা লীগের নেত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত তিন ধরে বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এর আগে (৮ আগস্ট) ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন কমিটির সভাপতি গাজালা পারভীন রুহি এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব তাহমিনা আক্তারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনকারীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে ৩৮৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। ওই প্রক্রিয়ায় সুপারভাইজার পদে ১০ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী পদে ৯৫ জন রয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ও যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাম দেখে তোলপাড় শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, নির্বাচিতদের তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ও যুবলীগের ওয়ার্ড মহিলা লীগের নেত্রী নাজনিন নাহার নাজমার নাম রয়েছে। ওই মহিলা নেত্রী নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে।
নিয়োগে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। কেউ প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ স্থানীয় নেতাদের সুপারিশের কথা বলছেন। আবার কেউ প্রকাশিত তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে এমন অভিযোগ দেখা গেছে। এসব পোস্টে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্থানীয় নেতাদের সুপারিশের বিষয়টি সামনে এসেছে।
সাইফুল ইসলাম হিরু নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বাইশগাঁও ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংগ্রহকারীর ছবি প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টে কুমিল্লা-৯ আসনের এমপি ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, স্থানীয় নেতারা যেভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ নেত্রীকে সুপারিশ করেছেন, সেভাবেই যদি নিয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে কোন ভিত্তিতে এসব ব্যক্তিকে সুপারিশ করা হয়েছে। এমনকি সুপারিশের পেছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।
পরে ওই আইডি থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আরেকটি পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টটির মন্তব্যে একজন লিখেছেন- বাইশগাঁও ইউনিয়ন তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত তালিকায় নাজনিন নাহার নাজমা নামে একজন আছেন। তিনি তো ৯নং ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা লীগের নেত্রী। বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপি মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। তাকে উপজেলার সভাপতি পাটোয়ারী সাহেব পদ দিয়েছেন।






