অবশেষে কে হচ্ছেন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব? যা জানা গেল
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি কাকে করা হবে সে নিয়ে নানা আলোচনা ছিল গত কয়েকমাস ধরে। ১৩ই অগাস্ট দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণার পর দলের মহাসচিবের পদটিও শূন্য হতে চলেছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। যে কারণে তার শূন্য পদে আগামীতে কে হবেন বিএনপির মহাসচিব সেটি নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথমে ভারপ্রাপ্ত তারপর কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় ১৬ বছর ধরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই পদে আসীন ছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা। তার এই পদে ভবিষ্যতে কে দায়িত্ব পালন করবেন, সেই প্রশ্নে দলের ভেতর কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েকজন নেতার নামই ঘুরেফিরে আসছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের স্থায়ী মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর আগে প্রয়োজন হলে কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এই দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীরই দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হবেন।
তবে মির্জা ফখরুল ইসলামের আলমগীরের স্থলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভীর বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলেও পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কেউ। রিজভীর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দুই যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য হিসেবে এসেছে।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে কিংবা সেই সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে কাউকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তার আগ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রিজভী দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। পার্টি যেটা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটার জন্যই অপেক্ষা করে আছি।’
মির্জা ফখরুলের আগে খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মহাসচিব থাকাকালে ২০১১ সালে তার মৃত্যুর পর তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। একই ধরনের প্রক্রিয়া এবারও হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
তবে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এসব নাম নিয়ে এখনো বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
বিএনপির নেতাদের মতে, মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে সম্প্রতি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। রিজভীর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তার নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
তবে মির্জা ফখরুল এখনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হননি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে শপথ নেওয়ার পরই তার মহাসচিবসহ দলীয় অন্যান্য পদ শূন্য হবে। এরপরই বিএনপিতে নতুন মহাসচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।






