ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সরকারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টি বেশি: ডপলার জরিপ

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩০ এএম

সরকারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টি বেশি: ডপলার জরিপ

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে করা এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানুষের সন্তুষ্টির চিত্র বেশ শক্তিশালী। তবে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং দেশের বর্তমান গতিপথ নিয়ে মানুষের মতামত তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও বিভক্ত।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ে ডপলার ওপিনিয়ন রিসার্চ আয়োজিত জনমত জরিপের ফল প্রকাশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘ডপলার অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এর ফল অনুযায়ী, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিপরীতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ তার কাজকে খারাপ বলেছেন। ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনও মতামত দেননি বা উত্তর দিতে চাননি।

‘জনকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচর্চায়’ ১৮০ দিনে কী করা হয়েছে‘জনকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচর্চায়’ ১৮০ দিনে কী করা হয়েছে
তবে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির হার নেমে এসেছে ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশে। ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ সরকারের কার্যক্রমকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

জরিপের সামগ্রিক চিত্রকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে আশা থাকলেও গত এক বছরে পরিবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ। তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন বেশ শক্তিশালী

বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ের মতো বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি সন্তুষ্টির হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতেই তার প্রতি সমর্থন ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের ওপরে।

শুধু ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যেই এই সমর্থন সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।

বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন, মূল্যায়ন কেন জরুরি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশের গতিপথ নিয়ে মত বিভক্ত

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার তুলনায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মতামত অনেক বেশি বিভক্ত।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন, বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে কোনও মতামত দেননি বা উত্তর দিতে চাননি।

জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ অনুত্তরের হার।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

সরকারের ১৮০ দিন: উদ্যোগ অনেক, বাস্তবায়নে বড় পরীক্ষা
বিভাগভেদেও পার্থক্য রয়েছে। ময়মনসিংহে ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দেশের গতিপথকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। খুলনায় এই হার ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

শিক্ষার মাত্রা বাড়ার সঙ্গে দেশের গতিপথ নিয়ে ইতিবাচক ধারণা কমেছে। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন উত্তরদাতাদের ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন দেশ সঠিক পথে আছে। এই হার এইচএসসি পাসকারীদের মধ্যে ৪১ দশমিক ১ শতাংশ।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ

দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী—এমন প্রশ্নে কোনও তালিকা জরিপে দেওয়া হয়নি। উত্তরদাতাদের নিজেদের মতো করে সমস্যা চিহ্নিত করতে বলা হয়।

এতে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বড় সমস্যা।

এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানকে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

যে বিষয়গুলোকে মানুষ সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন, সেগুলোতেই সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়নও সবচেয়ে খারাপ।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন, সরকার এটি খারাপভাবে সামলাচ্ছে। জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারের ব্যবস্থাপনাকে খারাপ বলেছেন ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ।

বিভাগ, আয় বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব মতামতে বড় কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

জরিপে সাতটি বিষয়ে সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু শিক্ষা খাতেই ইতিবাচক মূল্যায়ন পাওয়া গেছে। ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সরকার শিক্ষা খাত ভালোভাবে পরিচালনা করছে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থায় চাপ

সরকারের প্রথম ছয় মাসে অনেক পরিবার অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েছে বলেও জরিপে উঠে এসেছে।

৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, তাদের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তবে আগামী এক বছর নিয়ে প্রত্যাশা তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক।

৩৮দশমিক ১ শতাংশ আশা করছেন, আগামী ১২ মাসে তাদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো হবে। ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এক বছর আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী। ৩৯ শতাংশ এখন আগের চেয়ে কম আশাবাদী।

মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন, তাদের আশাবাদে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

তবে জরিপে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আশাবাদ মূলত মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে—এমন প্রমাণ হিসেবে এটিকে দেখার সুযোগ নেই।

ফ্যামিলি কার্ডে ব্যাপক সমর্থন

সরকারের কয়েকটি উদ্যোগের প্রতিও মানুষের শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

জরিপে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা ফ্যামিলি কার্ডের পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপে পরীক্ষা করা উদ্যোগগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম জনপ্রিয়।

সরকারের করনীতিকে সমর্থন করেছেন ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ। গণভোটের ফল সরকারকে বাস্তবায়ন করা উচিত বলে মনে করেন ৭০ শতাংশ।

বিরোধী নেতাদের নিয়ে জনমত

বিরোধী দলের নেতাদের নিয়েও মানুষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কার্যক্রমকে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ জানিয়েছেন, এই দুই নেতার কার্যক্রম মূল্যায়নের মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁদের জানা নেই।

জামায়াতের আমির সম্পর্কে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক সম্পর্কে ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন, তাদের মূল্যায়ন করার মতো যথেষ্ট তথ্য তাদের জানা নেই।

নিরাপত্তা নিয়ে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য

নিজ এলাকায় রাতে একা হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করেন কিনা—এমন প্রশ্নেও নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে।

৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, অন্ধকারের পর নিজ এলাকায় একা হাঁটলে তারা নিরাপদ বোধ করেন। নারীদের মধ্যে এই হার ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্ম পালন করতে নিরাপদ বোধ করেন।

মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে এই হার ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। হিন্দু উত্তরদাতাদের মধ্যে তা ৮২ শতাংশ।

১০ হাজারের বেশি নম্বরে ফোন

জরিপের জন্য মোট ১০ হাজার ৪১৩টি নম্বরে ফোন করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জন উত্তরদাতা কম্পিউটার সহায়তায় টেলিফোন সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। সাফল্যের হার ছিল ৩৩.১ শতাংশ।

দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রাম থেকে উত্তরদাতাদের নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে জরিপের ফল ভারসাম্যপূর্ণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জরিপে ইনোভিশনের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’র দ্বিতীয় ধাপের প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে।

সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ প্রায় শেষ

জরিপের ফল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শান বলেন, নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত জনমত যাচাই করা জরুরি।

তর মতে, নির্বাচন না থাকলে জনমতই সরকারের অগ্রাধিকার ঠিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দিক থেকে এই জনমত জরিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আসিফ শান বলেন, জরিপের ফল ইঙ্গিত করছে, সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ প্রায় শেষ। বর্তমান অনুমোদনের হার নিয়ে সরকারের হাতে রাজনৈতিক পুঁজি সীমিত। সেটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের দুর্বলতাকে আড়াল করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ অনুমোদন সরকারের জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে একই সঙ্গে এটি দেখাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ভালো পারফরম্যান্সের সঙ্গে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের কার্যক্রমের সমান প্রতিফলন ঘটছে না।

মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো বিষয়গুলোকে সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।

এসব চ্যালেঞ্জ কার্যকর ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে জরিপের ফল বলছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো যথেষ্ট—বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে। তবে সেই আস্থা ধরে রাখতে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি, জনসেবা, আইনশৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক শাসনব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চাপও সরকারের ওপর বাড়ছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন